kalerkantho


রাজাপুর উপজেলা সদর

ভাঙা সড়কে ভোগান্তি

ঝালকাঠি ও রাজাপুর প্রতিনিধি   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ঝালকাঠির রাজাপুরে উপজেলা সদরের প্রধান সড়কটি সংস্কারের ছয় মাস যেতে না যেতেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বাইপাস মোড় থেকে শুরু করে ডাকবাংলো মোড় হয়ে বাজার পর্যন্ত সড়ক এবং থানা সড়কটি খানাখন্দে ভরে গেছে। পিচ উঠে গিয়ে সড়কের মধ্যে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বাদুরতলা মোড় থেকে সাউথপুর সেতু পর্যন্ত সড়কেরও একই অবস্থা। অল্প বৃষ্টিতেই উপজেলা সদরের প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায়। ফলে উপজেলা সদর ও এর আশপাশে বসবাস করা অন্তত ২০ হাজার বাসিন্দাকে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

এ ছাড়া দুটি কলেজ, একটি মাদরাসা, দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চারটি কিন্ডারগার্টেনের হাজারো শিক্ষার্থী ও অভিভাবককে প্রতিদিন বাধ্য হয়েই কাদাপানির এই ভাঙা সড়কে নামতে হচ্ছে।

জানা যায়, উপজেলাবাসীর চলাচলের সুবিধার্থে চলতি বছরের শুরুতে এক কোটি আট লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক সংস্কার ও সড়কের দুই পাশে ড্রেন নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প নিয়েছিল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এ প্রকল্পের আওতায় সড়কের টেকসই সংস্কার ও দুই পাশে ড্রেন নির্মাণ করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। কোথাও কোথাও সড়কের একপাশে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। তবে বেশির ভাগ সড়কেই ড্রেন নির্মাণ করা হয়নি। তাই অল্প বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে যায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলা সদরের বাজার এলাকায় ড্রেন নির্মাণ করা হলেও থানা থেকে ডাকবাংলো মোড় হয়ে বাদুরতলা মোড় পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণ করা হয়নি। ফলে হালকা বৃষ্টিতেই ডাকবাংলো মোড়, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ও উপজেলা পরিষদ সড়কে পানি জমে যায়। আবার যেসব স্থানে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে তা সড়কের চেয়ে উঁচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি ড্রেনে ঢুকতে পারে না। তাই সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে থাকছে। ফলে রাজাপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, লালমোহন হামিদ মহিলা কলেজ, রাজাপুর ফাজিল মাদরাসাসহ একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী ছাড়াও সাধারণ পথচারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

বাইপাস এলাকার ব্যবসায়ী চান মিয়া জানায়, ‘সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কে পানি জমে যাওয়ায় ক্রেতারা এই সড়ক এড়িয়ে চলে। ফলে বেচাকেনা বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া সড়ক দিয়ে দ্রুতগতির যানবাহন চলাচল করার সময় দোকানের মধ্যে পানি ঢুকে মালামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই দ্রুত সড়কটি সংস্কার ও ড্রেন পুনর্নির্মাণ করা প্রয়োজন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. লুৎফুর রহমান বলেন, ‘সড়কে খানাখন্দের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করি, বর্ষা মৌসুমের শেষে সড়ক সংস্কার করা সম্ভব হবে।’



মন্তব্য