kalerkantho


টাঙ্গাইলে বাসে ধর্ষণ

ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধীকে পরিবারে হস্তান্তর সুপারভাইজার গ্রেপ্তার

টাঙ্গাইল ও ভূয়াপুর প্রতিনিধি   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



টাঙ্গাইলে বাসের মধ্যে ধর্ষণের শিকার প্রতিবন্ধী নারীকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল সোমবার শুনানি শেষে ওই প্রতিবন্ধী নারীকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের আদেশ দেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশিকুজ্জামান। ধর্ষিতার ভাই গত রবিবার তাকে নিতে টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানায় যান এবং বোনকে পেতে টাঙ্গাইল আদালতে আবেদন করেন।

এদিকে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাসের সুপারভাইজার এরশাদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রবিবার মধ্যরাতের দিকে কালিহাতী উপজেলার বেনুকুর্শিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত বাসের চালক আলম খন্দকার পলাতক রয়েছে।

ধর্ষিতা প্রতিবন্ধী নারীর ভাই জানান, তিনি তাঁর বোনকে নিরাপত্তা হেফাজত থেকে নিজেদের হেফাজতে পেয়ে অত্যন্ত খুশি। একই সঙ্গে বোনের ধষর্কদের উপযুক্ত শাস্তির জন্য তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের ফাঁসি দাবি করেন। ওই নারীর ভগ্নিপতিও গতকাল আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ওসি মোশারফ হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাসের সুপারভাইজার এরশাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল তাকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। আদালত (আজ) মঙ্গলবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেছেন। বাসের হেলপার নাজমুলকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

ওসি মোশারফ হোসেন আরো জানান, বাসে ধর্ষণের শিকার প্রতিবন্ধী নারীর পরিবারের সন্ধান পেতে তার ছবি ও তথ্য বিভিন্ন থানায় পাঠানো হয়। রবিবার খিলগাঁও থানার মাধ্যমে ওই নারীর ভাই বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানায় এসে জানান, তাঁর বোন মানসিক প্রতিবন্ধী। সে গত ২৩ আগস্ট ঢাকার খিলগাঁওয়ের বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। তাঁদের গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কুড়িফল গ্রামে। সে মাঝেমধ্যে গ্রামের বাড়ি, আবার মাঝেমধ্যে খিলগাঁওয়ে থাকত।

গত বৃহস্পতিবার রাতে টাঙ্গাইল থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি বাস যাত্রী নিয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্বপার পাথাইলকান্দি বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে। সব যাত্রী নেমে যাওয়ার পর রাত সাড়ে ১২টার দিকে প্রতিবন্ধী ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয়। তার (ওই নারীর) চিৎকারে স্থানীয় বাজারের পাহারাদার এগিয়ে গিয়ে ঘটনাটি দেখতে পান। তখন তিনি মহাসড়কে টহলরত পুলিশকে জানালে পুলিশ বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে হেলপার নাজমুলকে গ্রেপ্তার করে। পালিয়ে যায় চালক ও সুপারভাইজার।



মন্তব্য