kalerkantho


শ্রীপুরে শ্রমিক হত্যায় খুনির স্বীকারোক্তি

‘পাওনা টাকা আদায়ের জন্যই হত্যা করেছি’

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



গাজীপুরের শ্রীপুরে শাল বনের ভেতর পোশাক কারখানা শ্রমিক রাসেল মোল্লার পচাগলা মরদেহ উদ্ধারের তিন সপ্তাহের ব্যবধানে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। ধরা পড়েছে সহযোগীসহ খুনিও। তারা হলো আল মামুন (১৯) ও তার সহযোগী ইমান হোসেন ওরফে ইমন (১৯)। তাদের দুজনেরই বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার বেলতৈল গ্রামে।

তাদের মধ্যে আল মামুন গতকাল সোমবার বিকেলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সে দাবি করেছে, পাওনা টাকা দিতে দেরি করায় সহযোগী ইমনকে নিয়ে ওই হত্যাকাণ্ডটি ঘটায় সে। এরপর রাসেলের পকেটে থাকা নগদ সাত হাজার টাকা ও মোবাইল ফোনসেট নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। জবানবন্দিতে আল মামুন আরো জানিয়েছে, পাওনা টাকা আদায়ের জন্যই পরিকল্পনা করে হত্যা করেছি তাঁকে (রাসেল)।

নিহত শ্রমিক রাসেল মোল্লা (২৫) উপজেলার প্রহ্লাদপুর ইউনিয়নের বনখড়িয়া গ্রামের আমজাদ হোসেন মোল্লার ছেলে। তিনি পাশের সাটিয়াবাড়ী ডার্ড কম্পোজিট কারখানার শ্রমিক ছিলেন। নিখোঁজের দুই দিন পর গত ১০ আগস্ট বাড়ি থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে শাল বনের ভেতর রাসেল মোল্লার পচাগলা মরদেহের সন্ধান মেলে। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।

শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম মোল্লা জানান, মোহাম্মদ আলীর ছেলে আল মামুন ও হেলিম উদ্দিনের ছেলে ইমান হোসেন ওরফে ইমন উপজেলার রাজেন্দ্রপুর বাজার আরপি গেট এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত। তারা দুজনই এর আগে রাসেল মোল্লার সঙ্গে একই কারখানায় চাকরি করত। ওই সময় রাসেল মোল্লার সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় তাদের।

এসআই শহিদুল ইসলাম মোল্লা জানান, রাসেল মোল্লার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের কললিস্টের সূত্র ধরে গত রবিবার বিকেলে রাজেন্দ্রপুর বাজার থেকে আল মামুনকে আটক করেন তিনি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে সে (আল মামুন)। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতে অভিযান চালিয়ে আল মামুনের সহযোগী ইমনকে আটক করা হয়। জব্দ করা হয় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হাতুড়ি।

হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে গতকাল বিকেলে গাজীপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হামিদুল ইসলামের আদালতে আল মামুন ১৬৪ ধরায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আল মামুন দাবি করেছে, তার পাওনা টাকা দিতে দেরি করায় গত ৮ আগস্ট বিকেলে রাসেলকে মোবাইল ফোনে ডেকে আনে সে। পরে ওই দিন সন্ধ্যায় তারা রাসেলকে কৌশলে পাশের বনখড়িয়া শাল বনের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে হাতুড়ি দিয়ে মাথা ও কপালে উপর্যুপরি আঘাত করে রাসেলকে প্রথমে নিস্তেজ করা হয়। পরে বেল্ট দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় রাসেলকে। হত্যাকাণ্ডে তাকে সহযোগিতা করে ইমন। মৃত্যু নিশ্চিত করে মরদেহ বনের ভেতর ঝোপের মধ্যে ফেলে রাসেলের পকেটে থাকা সাত হাজার টাকা ও মোবাইল ফোনসেট নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।



মন্তব্য