kalerkantho


চট্টগ্রাম-কুমিল্লা-সিলেট আন্ত মহাসড়ক

ফুটপাত দখলে যানজট

একাধিকবার আইন-শৃঙ্খলা মিটিংয়ে বিষয়টি আলোচনা হলেও প্রশাসন নীরব

আজিজুর রহমান রনি, মুরাদনগর (কুমিল্লা)   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ফুটপাত দখলে যানজট

কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের পশ্চিম পাশে মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ বাজারে ফুটপাত দখল হওয়ায় সৃষ্ট যানজট। ছবি : কালের কণ্ঠ

কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের পশ্চিম পাশে মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ বাজার। মুরাদনগর, নবীনগর, হোমনা ও দেবিদ্বার থানার বড় ব্যবসায়ীদের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসার জোন হচ্ছে এ বাজার। কিন্তু ব্যস্ততম এ সড়কের ফুটপাত তো বটেই, অনেক স্থানে সড়কও অস্তিত্বহীন। সড়কজুড়ে ফুটপাত থাকলেও সবই ছোট বড় ফল ব্যবসায়ীদের দখলে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের জন্য হলেও এখানে সেই নিয়মের বালাই নেই। সড়কের মোড়ে মোড়ে রাস্তার ওপর বিভিন্ন যানবাহন দাড় করিয়ে চাঁদা আদায় করে একপক্ষ। আরেক পক্ষ চেক করে গাড়িতে টোকেন (চাঁদা আদায়ের দলিল) আছে কি না। দীর্ঘদিন ধরে এই সড়ক ও ফুটপাতে এমন নৈরাজ্য চলছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা মিটিংয়ে একাধিকবার আলোচনাও হয়েছে। কিন্তু তার পরও প্রশাসন নীরব। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই চলে আসছে। দোকানিরা ফুটপাত ও নালার ওপর বসানো স্ল্যাবে পণ্য রাখলেও যানজটের দায় চাপাতে চান অন্যের ওপর। তাঁদের ভাষ্য, ‘রাস্তা ও ফুটপাতে পণ্যের চেয়ে সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা বেশি সমস্যায় ফেলছে। এ ব্যাপারে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ কঠোর হলে সমস্যা অনেকটাই কমত।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দোকানের সামনে ফুটপাত এরপর নালা। নালার ওপর বসানো আছে স্ল্যাব। সব মিলিয়ে স্থানটির প্রশস্ততা প্রায় ১০ ফুট। কিন্তু এই অংশটুকু পথচারীদেরর নয়, পুরো স্থানটি ব্যবসায়ীদের দখলে। আর এতে ভোগান্তিতে পড়ছে পথচারীরা। বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা থেকে সিলেটগামী যানবাহন চলাচল করে এই কোম্পানীগঞ্জ বাজারের ওপর দিয়ে। মাঝেমধ্যে ঢাকার পথে দাউদকান্দি টোলপ্লাজায় যানজট হলে ঢাকাগামী গাড়িগুলো ক্যান্টনমেন্ট হয়ে এ কোম্পানীগঞ্জ দিয়ে ভৈরব হয়ে ঢাকায় যায়। তা ছাড়া দেবিদ্বার, মুরাদনগর ও নবীনগর থানার লোকজনেরও এই রাস্তায় চলাচল। বিশেষ করে মুরাদনগর উপজেলায় ৫০টির বেশি ইটভাটা রয়েছে। এসব ভাটার প্রায় দুই শতাধিক ট্রাক্টর সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাটি টানছে এ পথ দিয়েই। আবার চার থানার কয়েক হাজার সিএনজি (অটোরিকশা) গাড়িতে গ্যাস ভরতে আসে এই রাস্তা দিয়ে। কোম্পানীগঞ্জ বাজারে রয়েছে দুই হাজার ব্যবসায়ী। তাদের পণ্য ওঠানামার জন্যও বড় বড় ট্রাক বাজারে প্রবেশ করে। ফলে গাড়ির সামান্য জটলা বাধলেই তিন শ গজ রাস্তা পার হতে ঘণ্টা দুয়েক সময় লেগে যায়। পথচারী আলামিন বলেন, ‘ফুটপাত দোকানিদের দখলে। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই রাস্তার ওপর দিয়ে হাঁটতে হয়। এতে অনেক সময় গাড়ির বাম্পারের ধাক্কাও খেতে হয়।’ এ সময় কথা হয় ফুটপাতের কিছু ব্যবসায়ীর সঙ্গে। তাঁরা দৈনিক দুই শ টাকা করে চাঁদা দিয়ে দোকান করলেও এই প্রতিনিধির কাছে তা প্রকাশ করতে সংকোচ বোধ করেন। নাম প্রকাশ না করে কয়েকজন ব্যবসায়ী বললেন, ‘কিছু পেতে হলে কিছু দিতে হয়। তাই আমরা ম্যানেজ করেই দোকান করছি।’ তারা অভিযোগের তীর ট্রাফিক পুলিশের দিকে ছুড়ে বলেন, ‘এখানে যে ট্রাফিক দায়িত্ব পালন করেন তিনি যানজট নিরসনে কাজ না করে টোকেন চেকেই ব্যস্ত থাকেন।’ তবে ট্রাফিক পুলিশ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ফুটপাতে দোকান আর অতিরিক্ত গাড়ির চাপেই যানজট হচ্ছে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলার বি সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘যানজট নিরসনে পুলিশ ও জনগণ মিলেই কাজ করতে হবে। শিগগিরই আমরা বড় ধরনের কর্মসূচি নিয়ে কাজ করব।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিতু মরিয়ম বলেন, ‘যানজটের বিষয়টি আমার মাথায় আছে। এ সমস্যা দীর্ঘদিনের। আমার একার পক্ষে তা নিরসন করা সম্ভব নয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সার্বিক সহায়তা ও আন্তরিকতা থাকলেই এ জট নিরসন সম্ভব।’

উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুল কাইয়ুম খসরু বলেন, ‘দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কারণ কোম্পনীগঞ্জ বাজারের যানজট। বিষয়টি একাধিকবার আইন-শৃঙ্খলা মিটিংয়ে আলোচনায় এসেছে। চট্টগ্রাম ও কুমিল্লাবাসীকে সিলেট যেতে যেমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, তেমনি আশপাশের কয়েক থানার লোকজনও ভুগছে। দ্রুত এর সমাধান দরকার।’



মন্তব্য