kalerkantho


শ্রীমঙ্গল পোস্ট অফিস

প্রশাসনিক জটিলতায় বাড়ছে গ্রাহকের ভোগান্তি

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা পোস্ট অফিসে গ্রাহকের ভোগান্তি বেড়েই চলছে। পোস্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, এখানে কাজের পরিধি বেড়েছে বহুগুণ। বেড়েছে গ্রাহকের সংখ্যা এবং আয়ও। আগে এ পোস্ট অফিসে শুধু চিঠিপত্র আদান-প্রদান, বেতার লাইসেন্স, মানি অর্ডার ইত্যাদি করা হতো। এখন ইএমটিএস, পারিবারিক সঞ্চয়পত্র, বিভিন্ন মেয়াদি সঞ্চয়পত্র, পেনশন সঞ্চয়পত্র, প্রতিরক্ষা সঞ্চয়পত্র, সাধারণ হিসাব এবং মেয়াদি হিসাবসহ বেশ কিছু সেবা চালু করা হয়েছে। এতে প্রশাসনিক জটিলতাও বেড়েছে। আর এর খেসারত দিচ্ছে গ্রাহকরা। প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

শ্রীমঙ্গল পোস্ট অফিসটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৮ সালে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি সাব-অফিস হিসেবেই রয়ে গেছে। এদিকে শ্রীমঙ্গলের জেলা সদর মৌলভীবাজার। হবিগঞ্জের চেয়ে শ্রীমঙ্গল থেকে মৌলভীবাজারের দূরত্বও কম। যোগাযোগব্যবস্থাও ভালো। অথচ সাব-অফিস হিসেবে প্রশাসনিক কাজে হবিগঞ্জেই দৌড়াতে হয় এখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। আর এতেই গ্রাহকদের ভোগান্তি বাড়ছে। ভোগান্তির শিকার শ্রীমঙ্গল দ্বারিকা পাল মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মোনালিসা চৌধুরী অভিযোগ করেন, পারিবারিক সঞ্চয়পত্র কেনার জন্য প্রায় সাড়ে চার মাস তিনি পোস্ট অফিসে ধরনা দিয়েছেন। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল পোস্ট অফিসের কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন বলেন, ‘প্রশাসনিক কাজের জন্য যেতে হয় হবিগঞ্জে। আবার সেখান থেকে কাগজপত্র নিয়ে দৌড়াতে হয় মৌলভীবাজার হেড পোস্ট অফিসে। এভাবে দিন দিন প্রশাসনিক কাজে সৃষ্টি হচ্ছে জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা।’ পোস্টমাস্টার আবুল কালাম সামছুদ্দিন বলেন, ‘সাব-পোস্ট অফিস হওয়ায় গ্রাহকরা ভোগান্তিতে পড়ছে। কোনো কোনো কাজের জন্য আমাদের হবিগঞ্জ বিভাগীয় অফিসের নির্দেশনার অপেক্ষা করতে হয়। নগদ টাকার জন্য মৌলভীবাজার হেড পোস্ট অফিসের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয়। প্রতি মাসে এ পোস্ট অফিসে বিভিন্ন হিসাবে গ্রাহকদের কোটি টাকা জমা হলেও নগদ দুই লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি আমরা এই শাখায় রাখতে পারি না। পাঠিয়ে দিতে হয় মৌলভীবাজার হেড অফিসে। এ জন্য গ্রাহকদের এফডিআর, সঞ্চয়পত্র ভাঙাতে বা মুনাফা তুলতে ১০-১৫ দিন অপেক্ষা করতে হয়। একইভাবে পর্যাপ্ত ক্যাশ রাখতে না পারায় ইএমটিএস সেবাও দিতে পারছি না।’

হবিগঞ্জ বিভাগীয় পোস্ট অফিসের প্রধান সুজিত চক্রবর্তী বলেন, ‘শ্রীমঙ্গল পোস্ট অফিসকে দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা দিতে চট্টগ্রাম সার্কেল অফিসে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এটি হলে গ্রাহকের ভোগান্তি অনেকটা কমে যাবে।’ ডাক ও তার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুহিবুর রহমান বলেন, ডাক বিভাগের সেবার মান উন্নত করার জন্য কাজ চলছে। প্রথমে জেলার পোস্ট অফিসগুলোকে ‘ক্লাস ওয়ান’ অফিসে এবং পরে উপজেলার পোস্ট অফিসগুলোকে ‘হেড অফিসে’ উন্নীত করা হবে।’



মন্তব্য