kalerkantho


নাগরপুরে পপি হত্যা

বিয়ে না করতেই গলা কাটে প্রেমিক

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



মোবাইল ফোনে তিন-চার মাস আগে খালেদা আক্তার পপির সঙ্গে প্রেম হয় নববিবাহিত গোলাম মোস্তফা রাকিবের। পেশায় সে রাজমিস্ত্রি। মেয়েটি তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। এতেই ঘটে অঘটন। পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হবে ভেবে কৌশলে পপিকে হত্যা করে রাকিব। গ্রেপ্তার হওয়ার পর পুলিশের কাছে গতকাল রবিবার হত্যার এসব ঘটনা বর্ণনা করেছে সে।

রাকিব পুলিশকে জানায়, প্রেমের সম্পর্কের জেরে গত ৫ আগস্ট পপি তার সঙ্গে এলাসিন ব্রিজের ওপর দেখা করতে আসে। কথাবার্তার একপর্যায়ে রাকিবকে বিয়ের জন্য চাপ দেয় সে। তখন তাকে শান্ত করার জন্য রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলে রাকিব। এরপর সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ঘুরে দুজন রাতে উপজেলার সহবতপুর নলসন্ধ্যা গ্রামের ওই বাঁশঝাড়ে গিয়ে বসে। এ সময় রাকিব কাছে থাকা গামছা দিয়ে পপির গলা চেপে শ্বাসরোধে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য চাকু দিয়ে তার গলা কাটে।

পরে পপির ব্যবহৃত মোবাইল, বোরকা এবং গলা কাটায় ব্যবহৃত চাকু নলসন্ধ্যা খালের পাশে ফেলে দেয়। পপির মোবাইলটি ঘটনাস্থল থেকে ৫০০ গজ দক্ষিণে রাস্তার পাশে ফেলে দেওয়া হয়। ওই রাতেই বাঁশঝাড়ের ভেতর থেকে স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী পপির গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আবুল কালাম বাদী হয়ে গত ৭ আগস্ট অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে নাগরপুর থানায় একটি মামলা করেন। এ ঘটনায় পুলিশ নাগরপুর উপজেলার সহবতপুর উত্তরপাড়া গ্রামের ওয়াজেদ আলী মিয়ার ছেলে রাকিবের জড়িত থাকার প্রমাণ পায়। গতকাল রবিবার ভোরে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গামছা, চাকু, পপির বোরকা, মোবাইল ফোনসেট ও একটি স্কুলব্যাগ উদ্ধার করা হয়।

নাগরপুর থানার ওসি জানান, রাকিবকে গতকাল টাঙ্গাইলের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে।



মন্তব্য