kalerkantho


প্রতিবন্ধীদের টাকা শিক্ষা কর্তার পকেটে

ধামরাইয়ে অর্ধশত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৩৯ জন প্রতিবন্ধী রয়েছে

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ঢাকার ধামরাই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ১৭১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে পকেটে ভরেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিএমপি, চণ্ডীশ্বর, বেরশ, পাচাল, গুরুগ্রাম, দেপাশাই, উলাইল, হালুয়াপাড়া, দীঘলগ্রাম, গোয়ালদী, বাড়ীগাঁও, যদুনাথ শরৎচন্দ্র, ফোর্ডনগর, নওগাঁও কাইত, কেলিয়া এবং ডেমরানসহ প্রায় অর্ধশত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৩৯ জন শারীরিক, বুদ্ধি, দৃষ্টি ও বাক্প্রতিবন্ধী ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। এসব শিক্ষার্থী কোন ধরনের প্রতিবন্ধী তা যাচাই-বাছাই বা পরীক্ষা করে যার জন্য যে ধরনের উপকরণ (হুইলচেয়ার, চশমা, জুতা) বা যন্ত্রপাতি প্রয়োজন, তা কিনে দেওয়ার কথা। এ জন্য সরকার থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা গত ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর আগে এসব শিক্ষার্থী কোন ধরনের প্রতিবন্ধী, তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি তালিকা তৈরি করে গত ৪ মার্চ শিক্ষা কর্মকর্তা স্বাক্ষর করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠান। যা পৌঁছতে সময় লেগেছে এক মাস সাত দিন। যেখানে শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দূরত্ব প্রায় দেড় কিলোমিটার।

এ বিষয়ে কাকরান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর বাবা তমিজ উদ্দিন বলেন, ‘আমার ছেলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হিসেবে সরকারি কোনো উপকরণ পায়নি। পেলে উপকার হতো।’

দেপাশাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর বাবা আবদুস সামাদ বলেন, ‘শুনেছি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সরকার থেকে উপকরণ দেওয়া হয়। কিন্তু আমার ছেলে তো এখনো কিছু পায়নি। পেলে তার চলাফেরা করতে বেশ সুবিধা হতো।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধামরাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী রাশেদ মামুন বলেন, ‘৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করে আমার কাছে রেখে দিয়েছি। দুই বছরের টাকা একত্র করে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের দেওয়া হবে। প্রতিবন্ধীদের নামের তালিকা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু তিনি যাচাই-বাছাই করে আমাকে দিতে পারেননি। এ কারণে উপকরণ দেওয়া সম্ভব হয়নি।’

তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফজলুল হক বলেন, ‘প্রতিবন্ধীদের নামের তালিকা পাওয়ার পর শিক্ষা কর্মকর্তাকে মোবাইল ফোনে বলেছি শিক্ষার্থীদের আমার কার্যালয়ে পাঠাতে। এরপর তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা নির্ধারণ করবেন কার কোন ধরনের উপকরণ লাগবে। কিন্তু তিনি (শিক্ষা কর্মকর্তা) কোনো শিক্ষার্থীকে আমার কার্যালয়ে পাঠাননি।’

ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, ‘অর্থবছর শেষ হয়ে গেলেও প্রতিবন্ধীদের নামে বরাদ্দ উপকরণ দেওয়া হয়নি, এটা দুঃখজনক। খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঢাকা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলেয়া ফেরদৌসী শিখা বলেন, ‘আমি জুলাইয়ে যোগদান করেছি। বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



মন্তব্য