kalerkantho


বেতাগী

তিন প্রাণের মূল্য দেড় লাখ টাকা!

বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বেতাগীতে বাসের ধাক্কায় নিহত তিন ব্যক্তির জীবনের মূল্য ধরা হয়েছে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় মামলা হলে বরগুনা বাস মালিক সমিতির লোকজন প্রভাব খাটিয়ে ক্ষতিপূরণ হিসেবে নিহতদের জনপ্রতি ৫০ হাজার করে টাকা দিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে আপসরফায় বাধ্য করে। এদিকে এ দুর্ঘটনার পর প্রশাসনের টনক নড়েছে। গত শনিবার থেকে পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় উপজেলার কাজিরাবাদ ইউনিয়নের বকুলতলী গ্রামের আব্দুল আজিজ সিকদার ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলযোগে বেতাগী পৌর শহর থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে বরগুনা-বেতাগী সড়কের খানের হাট এলাকায় ছত্তার পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান আব্দুল আজিজ সিকদার (৭২)। গুরুতর আহত অবস্থায় মোটরসাইকেলচালক লিটন আকন (৩৬) ও তাঁর বাবা হানিফ আকনকে (৭০) বেতাগী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় হানিফ আকন। অন্যদিকে অবস্থার অবনতি হলে লিটন আকনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়। ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় বেতাগী থানা পুলিশ ঘাতক বাসটিকে জব্দ করে। পরে নিহত আজিজ সিকদারের ছেলে সিদ্দিকুর রহমান বাদী হয়ে বেতাগী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালীরা ক্ষমতাবলে তাঁকে দেড় লাখ টাকায় আপসরফায় বাধ্য করেন। প্রথমে বরগুনা বাস মালিক সমিতির লোকজন টাকা দিতে গড়িমসি করে। পরে বরগুনা বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও সড়িষামুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমাম হোসেন শিপন গিয়ে টাকা পরিশোধ করেন।

এ ঘটনায় বরগুনা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ছত্তার পরিবহনের মালিক মো. ছগির বলেন, ‘এ দুর্ঘটনায় বাসচালকের কোনো ত্রুটি ছিল না। মোটরসাইকেল চালকের ভুলের কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তবুও আমরা নিহতদের পরিবারের প্রতি সহানুভূতি জানাচ্ছি।’

বেতাগী থানার ওসি হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ঘাতক বাসটি জব্দ করা হয়েছে। বাসচালককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

ঘটনার পরের দিন ২৯ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বকুলতলী গ্রামে গিয়ে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে নিহতদের পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেন।



মন্তব্য