kalerkantho


সুন্দরবনের নদীতে বিষ দিয়ে মাছ ধরা

এতে নানা প্রজাতির মাছসহ জলজ প্রাণী মরে যায়

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সুন্দরবনের নদীতে বিষ দিয়ে মাছ ধরা

সুন্দরবনের খালে বিষ দিয়ে মাছ ধরার সময় দুজনকে আটক করা হয়েছে। গতকাল রবিবার ভোরে বিষসহ বনের শেলার খাল থেকে তাদের আটক করে বন বিভাগ। সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের কর্মকর্তা মো. শাহিন কবির এ খবর নিশ্চিত করেছেন।

আটকরা হলো মোংলা উপজেলার বৌদ্ধমারী গ্রামের সেকেন্দার ইসলামের ছেলে মহিদুল ইসলাম (২৫) ও মো. আসাদুলের ছেলে মো. সোহেল (২০)। তাদের নামে বন আইনে মামলা দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

শাহিন কবির জানান, বেশ কিছুদিন ধরে সুন্দরবনের বিভিন্ন নদ-নদী এবং খালে বিষ দিয়ে মাছ ধরার প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। মোংলা বাজারের এক শ্রেণির অর্থলোভী মৎস্য ব্যবসায়ী দুর্বৃত্তদের হাতে বিষ দিয়ে এসব খালে মাছ শিকারে পাঠাচ্ছে। জেলে ও বড়শিয়াল নামধারী দুর্বৃত্তরা নদীতে ভাটার সময় বনের ভেতরের খাল ও জলাশয়ের গোড়ার দিকে জাল পেতে কাদামাটি দিয়ে ঢেকে রাখে। এরপর তারা পরিপূর্ণ জোয়ারে জালের ওপরের অংশ তুলে মাছ আটকে দেয়। মাছ আটকানো খালে তারা হিলডন রিপকর্ড ডাইমোক্রোনসহ নানা কম্পানির ভারতীয় কীটনাশক ছিটিয়ে দেয়। এতে নানা প্রজাতির মাছসহ জলজ প্রাণী মরে যায়। অতি সহজে মেরে ফেলা মাছ কুড়িয়ে এনে তা মোংলাসহ আশপাশের বাজারে বিক্রি করে। পরে মাছগুলো মোংলার আড়তদাররা কিনে তা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠায়। তিনি বলেন, ‘বিষ দিয়ে মাছ ধরা ব্যবসায়ীদের মধ্যে কারো কারো ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের পরিচয় থাকায় ধরা যাচ্ছে না।’

কীটনাশক দিয়ে শিকার করা মাছ খেলে লিভার-কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জীবিতেষ বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘বিষ দিয়ে শিকার করা মাছ পেটে গেলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাকস্থলীও নষ্ট হয়ে যেতে পারে।’

বিষ দিয়ে মাছ শিকার রোধে বন বিভাগ কার্যকর কী পদক্ষেপ নিয়েছে—এ প্রশ্নের উত্তরে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) মাহামুদুল হাসান জানান, বিষ দিয়ে মাছ শিকারসহ নানা অনিয়ম রোধে বনে স্মার্ট প্যাট্রলিং অব্যাহত আছে। কীটনাশক দিয়ে মাছ ধরায় ক্ষতি হচ্ছে অনেক বেশি। কারণ কীটনাশকে সব প্রজাতির রেণু পোনা মরে সুন্দরবনের খাল-বিল মাছশূন্য হয়ে যাচ্ছে। এসব বন্ধে সুন্দরবনকে আধুনিক নেটওয়ার্কের আওতায় আনার কাজ চলছে।



মন্তব্য