kalerkantho


বাবার বাড়ি থেকে টাকা না আনায় প্রাণ গেল গৃহবধূর

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলার দিয়ার বৈদ্যনাথ গ্রামের শরিফ উদ্দিন ভূইয়া ও রেহানা পারভীনের একমাত্র মেয়ে অনিমা খাতুন (২০)। গত ২৪ আগস্ট অনিমাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অনিমার বাবা অনিমার স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ পাঁচজনকে আসামি করে উল্লাপাড়া থানায় ২৫ আগস্ট একটি মামলা করেছেন।

অনিমার স্বামীর নাম বায়জিদ হোসেন বিপ্লব (২৮)। তিনি উল্লাপাড়া উপজেলার কয়ড়া সরাতলা গ্রামের আবু হেনার ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর আগে অনিমা ও বিপ্লবের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় আসামিদের চাহিদা অনুযায়ী সোনার গয়না, বিভিন্ন মাল, টাকা, আসবাবপত্রসহ সাত লাখ টাকা উপঢৌকন দেওয়া হয় বিপ্লবকে। পরে আসামিরা আরো পাঁচ লাখ টাকা চায়। এ টাকা না পেয়ে অনিমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন প্রায়ই তাঁকে মারধর করত। এ নিয়ে একাধিকবার সালিস হয়েছে।

গত ২৩ আগস্ট অনিমার মা, দাদা-দাদিসহ বাড়ির কয়েকজন অনিমাকে দেখতে তাঁর শ্বশুরবাড়ি যায়। অনিমাকে আর যেন নির্যাতন না করা হয় এ কথা বলে পরদিন বিকেলে তারা পাশেই আত্মীয়র বাড়ি বেড়াতে যায়। এই সুযোগে অনিমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন অনিমাকে মায়ের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাইতে চাপ দেয়। এতে অনিমা অসম্মতি জানালে তাঁকে তারা বেধড়ক মারধরসহ শ্বাসরোধে হত্যা করে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। রাতে অনিমার মা, দাদা-দাদি আত্মীয়র বাড়ি থেকে ফিরে এসে অনিমাকে না পেয়ে ডাকাডাকি করেন।

গত শুক্রবার অনিমার শ্বশুরবাড়ি গিয়ে দেখা, অনিমার ঘরটি তালাবদ্ধ। বাড়িতে কেউ নেই। প্রতিবেশীরা জানায়, অনিমার মৃত্যুর ঘটনায় মামলার পর স্বামী পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলেও অন্যরা পলাতক।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উল্লাপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই গ্রেপ্তার প্রধান আসামি বিপ্লবকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের মাধ্যমে থানায় আনা হবে।



মন্তব্য