kalerkantho


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সড়কে দোকান বরাদ্দ, ক্ষোভ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সড়কে দোকান বরাদ্দ, ক্ষোভ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার গোকর্ণঘাট বাজারে সড়কের ওপর দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে সেখানে ঘর তোলা হয়েছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার গোকর্ণঘাট বাজারে সড়কের ওপর দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে সেখানে ঘর তুলে ফেলা হয়েছে। এ কারণে নৌপথে আসা পণ্য ওঠানামা করানো ও নৌযাত্রীদের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ক্ষোভ বিরাজ করছে যাত্রীসহ এলাকার মানুষের মধ্যে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গোকর্ণঘাট বাজারের পশ্চিম প্রান্ত থেকে ছোট ছোট নৌযান বিভিন্ন এলাকার দিকে ছেড়ে যায়। ওই সব নৌযান দিয়ে বিভিন্ন পণ্য আনা-নেওয়াসহ আশপাশের একাধিক উপজেলার লোকজন চলাচল করে। নৌযানের যাত্রীরা যে সড়ক দিয়ে চলাচল করে ও যেখান দিয়ে পণ্য ওঠানামা করানো হয় সেই রাস্তাটি পাকা করা। পাকা রাস্তাটির বেশির ভাগ অংশে টিনের ঘর ওঠানো। ফলে পণ্য ওঠানো-নামানো ও যাত্রীদের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

গোকর্ণঘাট বাজারের ব্যবসায়ী মো. ইয়াকুব মিয়া বলেন, ‘৫১ বছর ধরে এ বাজারে ব্যবসা করছি। যেখানে ঘর তোলা হয়েছে সেখান দিয়েই আমরা মালামাল ওঠানামা করাতাম। নৌযানের যাত্রীরাও এ পথ দিয়েই চলাচল করত। কিন্তু এখানে ঘর ওঠানোয় আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও গোকর্ণঘাট বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. ফেরদৌস মিয়া বলেন, ‘জায়গাটি সরকারি। কিন্তু মানুষের সুবিধার কথা চিন্তা করে আমরা রাস্তাটি পাকা করে দিই। রাস্তা পাকা করার পরই সরকারি লোকজন এসে এখানে ঘর তুলে দিয়ে যায়। বলা হয় জায়গাটি লিজ দেওয়া হয়েছে। এতে পণ্য ওঠানো-নামানো ও যাত্রীদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।’

ফেরদৌস মিয়া জানান, সরকারি ওই জায়গাটি প্রয়োজনে রাস্তা হিসেবে ব্যবহারের জন্য কয়েকজন মিলে লিজ নেওয়ার আবেদন করে। কিন্তু সেটা না করে দোকানঘর হিসেবে বরাদ্দ দিয়ে সেখানে ঘর ওঠানোয় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সোহেল রানা বৃহস্পতিবার দুপুরে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ওই জায়গাটি প্রায় এক বছর আগে পেরিফেরি করা হয়। যে জায়গাটিতে পাকা রাস্তা করা হয়েছে সেখানে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয় মাস চারেক আগে। কয়েকজন অবৈধ দখলদার উদ্দেশ্যমূলকভাবে কিছুদিন আগে ওই জায়গায় পাকা সড়ক নির্মাণ করে।’

এক প্রশ্নের উত্তরে সোহেল রানা আরো বলেন, ‘জনগণের স্বার্থের কথা অবশ্যই চিন্তা করতে হবে। ওইখানে সরকারি জায়গায় যেসব অবৈধ স্থাপনা আছে সেগুলো সরিয়ে নিলেই চলাচলের রাস্তা বের হবে। কিছুদিনের মধ্যেই সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।’

 



মন্তব্য