kalerkantho


বানিয়াচংয়ের কালনী নদী

চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে অবৈধ বালু উত্তোলন

ভাঙনের হুমকিতে গ্রাম

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমানের নেতৃত্বে কালনী নদীতে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু তুলে ব্যবসা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে নদীতীরবর্তী হিলালনগর গ্রাম হুমকির মুখে পড়েছে। প্রতিকার চেয়ে ১০৫ জন স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগপত্র বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মামুন খন্দকার বরাবর দেওয়া হয়েছে। তিনি উপজেলা সহকারী কমিশনার (এসি ল্যান্ড) সাব্বির আহমেদ আকুঞ্জিকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন।

অভিযোগে জানা গেছে, চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমান, ইউপির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) জাহাঙ্গীর চৌধুরী, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মইনুদ্দিন, দৌলতপুর গ্রামের মৃত ছমেদ মিয়ার ছেলে ফেরদৌস মিয়া ও বাতেন মিয়ার ছেলে তোফায়েল মিয়া এলাকাবাসীর বাধা উপেক্ষা করে এক মাস ধরে ড্রেজার মেশিন দিয়ে কালনী নদী থেকে বালু তুলে বিক্রি করে আসছেন। এতে হিলালনগরের বসতবাড়ি ভাঙনের হুমকির মুখে পড়েছে। স্বাভাবিকভাবেই নদীভাঙন চলছে। এর মধ্যে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করায় ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।

মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে তিনি সম্পৃক্ত নন। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও জানেন। এলাকার এক ব্যক্তি তাঁকে ঘটনার সঙ্গে জড়াচ্ছেন। তিনি আরো দুটি মিথ্যা অভিযোগ করেছেন তাঁর (লুৎফুর) বিরুদ্ধে। লুৎফুর জানান, এলাকায় একটি নৌ পুলিশ ফাঁড়ির কাজ চলছে। ওই কাজের জন্য নদী থেকে বালু নেওয়া হচ্ছে। ঢাকার এক ঠিকাদার এর কাজ করছেন। উন্নয়নের বিষয় জড়িত থাকায় তিনি (চেয়ারম্যান) এ ব্যাপারে কিছু বলছেন না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন খন্দকার জানান, বিষয়টি তদন্ত করতে উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো জানান, কালনী নদী কোনো সময় বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা দেওয়া হয়নি। যারা বালু উত্তোলন করছে, তারা অবৈধভাবেই করছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) জেলা সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সদস্য তোফাজ্জল সোহেল বলেন, এভাবে বালু উত্তোলনের ফলে বিস্তীর্ণ জনপদ নদীভাঙনের শিকার হবে। এ ব্যাপারে জনপ্রতিনিধি হিসেবে ইউপি চেয়ারম্যানের প্রতিবাদ করার কথা। উল্টো তিনিই এ কাজে জড়িত। তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান।

উল্লেখ্য, এর আগে একই নদী থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বিট বালু তুলে বিক্রি করায় চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমানের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ৩ ডিসেম্বর তৎকালীন ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন দৌলতপুর গ্রামের শেখ সাইফুল ইসলাম। তখন এ নিয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।

সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশ উত্তোলনকৃত বিট বালু জব্দ করেছিল। এ ছাড়া গত জুন মাসে কর্মসৃজন প্রকল্পের শ্রমিকদের দিয়ে কাজ না করিয়ে এক্সিলেটর মেশিনের মাধ্যমে নামমাত্র কাজ করে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ ও শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে লুৎফুর রহমানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন দৌলতপুরের শেখ আনোয়ার জাহিদ।



মন্তব্য