kalerkantho


মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

নবজাতক রেখে চলে গেলেন মা, গায়েব করলেন নার্স-আয়া

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি   

১৬ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



যশোরের মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি নবজাতক (ছেলে) রেখে চলে গেছেন তার মা। পরে নবজাতকটিকে সরিয়ে ফেলা হয়। গত মঙ্গলবার বিকেল ও রাতের এ ঘটনায় কয়েকজন সেবিকা (নার্স) ও আয়া জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার অস্পষ্ট ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, দুই নারী শিশুটিকে নিয়ে যাচ্ছেন। গতকাল বুধবার এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিশুটির সন্ধান জানাতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

অভিযুক্তরা হলেন নার্স হ্যাপি রায় ও আয়া পূর্ণিমা কুণ্ডু। নার্স ঝর্ণা রানী ও আয়া কাকলী রানীও ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।

হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডের ২৮ নম্বর শয্যার (বেড) রোগী সালেহা বেগম বলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে বোরকা পরা এক নারীকে নিয়ে ডেলিভারি রুমে ঢোকেন নার্স ও আয়া। বিকেল ৩টার দিকে ওই নারী বেরিয়ে যান। সন্দেহ হলে আমরা ভেতরে গিয়ে দেখি, ওই কক্ষের বেডে নাকে অক্সিজেন লাগানো একটি বাচ্চা শোয়ানো আছে। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাচ্চার কান্নার শব্দ পেয়ে দৌড়ে গিয়ে দেখি, কক্ষের ভেতরে কেউ নেই। বালতির মধ্যে তুলা জড়ানো অবস্থায় বাচ্চাটি উপুড় করে রাখা। আমি দ্রুত বাচ্চাটিকে কোলে নিই। এরপর একজন নার্স ও আয়া পূর্ণিমা এসে আমার কোল থেকে বাচ্চাটি কেড়ে নিয়ে যান।’

হাসপাতালের দায়িত্বরত নার্স নাজমুন নাহার বলেন, ‘রাত ৮টার সময় হ্যাপির ডিউটি শেষ হয়। আমি তাঁর কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার সময় তিনি আমাকে ওই বাচ্চা সম্পর্কে কিছু জানাননি। এরপর লেবার রুমে গিয়ে দেখি একটি বাচ্চা বেডে শোয়ানো। আমি দ্রুত এসে হ্যাপির কাছে বিষয়টি জানতে চাই। তিনি আমাকে ভালো করে কিছু বলেননি। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক রাজিব কুমার পালকে জানাই। ততক্ষণে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান হ্যাপি। পরে হ্যাপিকে ডেকে আনা হলে আয়া পূর্ণিমা ও হ্যাপি বাচ্চা নিয়ে যান। এর পরে কী হয়েছে বলতে পারব না।’

পূর্ণিমা বলেন, ‘আমি দোতলা থেকে বাচ্চা নিয়ে নিচে হ্যাপি আপার কাছে দিয়েছি।’

জানতে চাইলে হ্যাপি রায় বলেন, ‘যাদের বাচ্চা তাঁরা নিয়ে গেছেন। ওই নারীর তিন ছেলে রয়েছে। এবার ছেলে হওয়ায় স্বামী নির্যাতন করবেন—এই ভয়ে তিনি বাচ্চাটি রেখে গিয়েছিলেন।’

ডা. রাজিব কুমার পাল বলেন, ‘ডেলিভারির কোনো রোগীর নাম-ঠিকানা হাসপাতালের রেজিস্টারে নেই। বাচ্চাটি বেওয়ারিশ। রাতে বিষয়টি জানাজানি হলে নার্স হ্যাপি ও আয়া পূর্ণিমা বাচ্চা সরিয়ে ফেলেন। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।’

মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল গফ্ফার বলেন, ‘ঘটনায় জড়িত সবাইকে ডেকেছি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।’



মন্তব্য