kalerkantho


স্কুলছাত্রকে অস্ত্রোপচার কক্ষে ফেলে পালালেন ডাক্তার

বগুড়ায় ক্লিনিক সিলগালা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

২০ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০





স্কুলছাত্রকে অস্ত্রোপচার কক্ষে ফেলে পালালেন ডাক্তার

বগুড়া শহরের শেরপুর রোডে বুধবার রাতে ডলফিন ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিকে অস্ত্রোপচারের পর স্কুলছাত্র সাকিবের মৃত্যুতে বাবা আব্দুল আজিজ লিটনের আহাজারি। ছবি : কালের কণ্ঠ

বিকেলে স্কুল থেকে ফিরে সন্ধ্যায় মা-বাবার সঙ্গে গিয়ে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অপারেশনের জন্য বেসরকারি হাসপাতালে (ক্লিনিক) ভর্তি হয়েছিল ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র সাকিব (১৩)। সন্ধ্যায় অপারেশনের পর দুই ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তার জ্ঞান না ফেরায় স্বজনরা অপারেশন থিয়েটারে ঢুকে দেখে নিষ্প্রাণ পড়ে আছে কিশোরটি। ততক্ষণে চিকিৎসক এবং তাঁর সহকারীরা অপারেশন থিয়েটারের পেছন গেট দিয়ে পালিয়ে গেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাতে বগুড়া শহরের নামসর্বস্ব ডলফিন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মমতাজ মহলের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য বিভাগের একটি টিম ডলফিন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু সে সময় ক্লিনিকটি তালাবদ্ধ ছিল। এরপর ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে অবৈধ এই ক্লিনিকটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। অভিযানকালে বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. শামসুল হক এবং বগুড়া সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সামির হোসেন মিশু উপস্থিত ছিলেন।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, অপারেশনের পর চিকিৎসকদের অবহেলাতেই প্রাণ গেছে সাকিবের। তার মৃত্যুর পর থেকেই ক্লিনিকের মালিক ও কর্মকর্তারা পলাতক।

শহরের সাতমাথা হয়ে শেরপুর রোডের সাতানীবাড়িসংলগ্ন ডলফিন ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অবস্থান। ক্লিনিকটির অবস্থান সম্পর্কে স্বাস্থ্য বিভাগের কেউই অবগত ছিলেন না। নিহত সাকিব হাসান শহরের ফুলদীঘি পূর্ব পাড়ার আব্দুল আজিজ লিটনের ছেলে এবং শহরের ফয়জুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র।

নিহতের বাবা আব্দুল আজিজ লিটন জানান, তাঁর ছেলে সাকিব হাসান কয়েক দিন হলো পেটের ব্যথায় ভুগছিল। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার পেটে অ্যাপেন্ডিসাইটিস ধরা পড়ে। পরে এক প্রতিবেশীর পরামর্শে বুধবার বিকেলে ছেলেকে তিনি অস্ত্রোপচারের জন্য ওই ক্লিনিকে ভর্তি করান। সেই অনুযায়ী রাত ৮টার দিকে ছেলেকে ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। ডা. এ কে পাল সাকিবের অপারেশন করেন। অপারেশন থিয়েটারে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ঢুকে দেখেন সেখানে কেউ নেই। এরপর তাঁরা নিজেরাই রাত ৮টা ৪০ মিনিটে ছেলেকে বের করেন। তখন ছেলের দেহ নিথর ছিল। এভাবে কিছু সময় কেটে যাওয়ার পর তিনি ছেলেকে নিয়ে শহরের কানছগাড়ী এলাকায় অবস্থিত আরেকটি ক্লিনিকে যান। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁরা জানান, বেশ কিছুক্ষণ আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। এরপর ওই ক্লিনিক থেকে ছেলেকে নিয়ে আবার ডলফিন ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ফেরেন তিনি।

রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কামরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে সাকিবের মৃত্যুর খবরে তার আত্মীয়-স্বজন ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ওই ক্লিনিক ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

সাকিবের বাবা আব্দুল আজিজ লিটন ও মা পান্না আকতার অভিযোগ করে বলেন, চিকিৎসকের ভুলের কারণে তাঁদের ছেলের মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা ছেলে হত্যার বিচার চান।

ক্লিনিকের মালিক জন মণ্ডল ও অন্য কর্মকর্তারা পলাতক থাকায় এ ব্যাপারে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



মন্তব্য