kalerkantho


লেখাপড়ায় বাধা দুই ছাত্রী লাশ

মণিরামপুর (যশোর) ও ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



যশোরের মণিরামপুরে গতকাল বৃহস্পতিবার ক্ষমা রানী কুণ্ডু (১৮) নামের এক কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার হাকোবা গ্রামের বাবুলাল কুণ্ডু ও তৃপ্তি রানী কুণ্ডুর মেয়ে এবং যশোর এমএম কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

ক্ষমা রানীর প্রতিবেশী চাচা শ্রীবাস কুণ্ডু জানান, ক্ষমা রানীর বিয়ে দেওয়া নিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় মা-বাবার সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ হয়। পরদিন সকালে তাঁর শয়নকক্ষে তাঁকে ঝুলতে দেখা যায়।

মা তৃপ্তি রানী কুণ্ডু বলেন, ‘আর্থিক অভাব-অনটনের কারণে ক্ষমার বাবা মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। এ নিয়ে ক্ষমা আমাদের সঙ্গে ঝগড়া করে। সকালে ঘুম থেকে ডাকতে গিয়ে দেখি সে দরজা খুলছে না। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে গিয়ে ঘরের চালের আড়ার সঙ্গে ক্ষমাকে ঝুলতে দেখি।’  

মণিরামপুর থানার ওসি মো. মোকাররম হোসেন বলেন, ‘মেয়েটির বাবা দরিদ্র। তাঁর পড়ালেখার খরচ টানতে না পেরে মা-বাবা তাঁকে বিয়ে দিতে চাইলে মেয়েটি মা-বাবার সঙ্গে ঝগড়া করেন। হয়তো মেয়েটি মা-বাবার ওপর অভিমান করে আত্মহননের পথ বেছে নেন। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। স্বজনদের অনুরোধে লাশ সৎকারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’

এদিকে বই কেনার টাকা না পেয়ে বন্যা আক্তার (১৬) নামে দরিদ্র ঘরের এক কলেজছাত্রী অভিমানে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে বলে জানিয়েছে স্বজন ও পুলিশ। গতকাল সকালে ময়মনসিংহের ভালুকা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ঘটনাটি ঘটে। বন্যা ওই ওয়ার্ডের মজনু মিয়া ও মনোয়ারা খাতুনের মেয়ে এবং ভালুকা-ত্রিশাল মৈত্রী কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

থানা সূত্রে জানা যায়, বন্যাকে তার মায়ের গর্ভে রেখে পালিয়ে যান মজনু মিয়া। চরম প্রতিকূলতার মধ্যে মেয়েকে বড় করছিলেন ও পড়াশোনা করাচ্ছিলেন মা মনোয়ারা। তিনি স্থানীয় একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক। চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর কলেজে ভর্তি হয় বন্যা। সে মায়ের কাছে বই কেনার টাকা চাইতে থাকে। কিন্তু দরিদ্রের কারণে টাকা দিতে পারছিলেন না মনোয়ারা। বৃহস্পতিবার সকালে কর্মস্থল থেকে ফিরলে মায়ের কাছে বই কেনার টাকা চায় বন্যা। টাকা সংগ্রহের জন্য মনোয়ারা পাশের বাসায় যান। ফিরে এসে দেখতে পান মেয়ের ঝুলন্ত লাশ।

মনোয়ারা বলেন, ‘চাকরির বেতন না পাওয়ায় বই কেনার টাকার জন্য সকালে আমার ভাইয়ের কাছে যাই। বাড়িতে এসে মেয়ের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পাই। সময়মতো বই কেনার টাকা দিতে না পারায় অভিমানে আত্মহত্যা করেছে বন্যা।’

ভালুকা মডেল থানার এসআই জীবন চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘বই কেনার টাকা না পেয়ে আত্মহত্যা করে বন্যা। বিনা ময়নাতদন্তে দাফনের আবেদনে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।’



মন্তব্য