kalerkantho


পিরোজপুরে নবজাতক ও দিনাজপুরে প্রসূতির মৃত্যু

চিকিৎসকের অদক্ষতা ও অবহেলার অভিযোগ

দিনাজপুর ও পিরোজপুর প্রতিনিধি   

১৪ জুন, ২০১৮ ০০:০০



পিরোজপুরে নবজাতক ও দিনাজপুরে প্রসূতির মৃত্যু

দিনাজপুরে একটি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর প্রচুর রক্তক্ষরণে হুসনেয়ারা বেগম (২৭) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। শহরের বালুবাড়ী পশু হাসপাতাল মোড়ে আল মদিনা নার্সিং হোমে তাঁর অস্ত্রোপচার হয়েছিল। প্রসূতির মৃত্যুর জন্য চিকিৎসকের অদক্ষতাকে দায়ী করছেন অন্য চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনরা। ঘটনার পর ক্লিনিক বন্ধ করে পালিয়েছে চিকিৎসক ও কর্মচারীরা।

এ ছাড়া পিরোজপুরে চিকিৎসকের অবহেলায় এক নবজাতক মারা গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার সকালে জেলা সদরের নতুন বাস টার্মিনাল এলাকায় অবস্থিত মুসলিম এইড কমিউনিটি হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটেছে।

দিনাজপুরে মারা যাওয়া প্রসূতি হুসনেয়ারা চিরিরবন্দর উপজেলার সাইতারা ইউনিয়নের কালিতলা গ্রামের ইয়াকুব আলীর স্ত্রী। এই দম্পতির এর আগে তিনটি মেয়ে রয়েছে। ছেলে সন্তানের আশায় চতুর্থ সন্তান নেন তাঁরা।

আলট্রাসনোগ্রাফিতে তাঁরা আগেই জেনে যান এবার পুত্র সন্তান হচ্ছে হুসনেয়ারার। এ নিয়ে পরিবারে আগেই আনন্দ বিরাজ করছিল। কিন্তু মায়ের মৃত্যুতে সেই আনন্দ মাটি হয়ে গেছে। নবজাতক সুস্থ থাকায় তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

হুসনেয়ারার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তাঁদের প্রথম তিনটি সন্তান স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে হয়েছে। কিন্তু এবার চিকিৎসক জানিয়েছিলেন সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করতে হবে। আল মদিনা নার্সিং হোমের চিরিরবন্দর উপজেলার প্যারামেডিক্যাল পড়ুয়া দালাল মুশফিকুর রহমান তাঁদের বলেছিল হোমের ডা. খাদিজা নাহিদ ইভার কাছে সিজারিয়ান অপারেশন করলে কম খরচ হবে। দালালের মাধ্যমে গত মঙ্গলবার দুপুরে এসে তাঁরা ওই নার্সিং হোমে সাড়ে আট হাজার টাকা চুক্তিতে সিজারের জন্য ভর্তি হন।

হুসনেয়ারা ভাই নাজমুল ইসলাম জনান, মঙ্গলবার বিকেলে হুসনেয়ারার অস্ত্রোপচার করেন ডা. খাদিজা নাহিদ ইভা। সন্ধ্যায় তাঁদের জানানো হয় রোগীর রক্তক্ষরণ বন্ধ হচ্ছে না। রক্ত লাগবে। এ কথা শুনে রোগীর লোকজন দুই ব্যাগ রক্ত দেয়। রাত ৯টার দিকে জানানো হয় আরো এক ব্যাগ রক্ত লাগবে। এরপর রাত সাড়ে ১০টায় রোগীকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের ১ নম্বর ইউনিটের চিকিৎসক সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. জাহানারা বেগম মুন্নির অধীনে ভর্তি করে। সেখানে রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। এরপর আর রোগীর কোনো তথ্য স্বজনদের জানানো হয়নি। গতকাল ভোরে জানানো হয় হুসনেয়ারা মারা গেছেন।

গতকাল সকাল ৯টার দিকে আল মদিনা নার্সিং হোমে গিয়ে ক্লিনিক বন্ধ পাওয়া যায়। বিকেল ৪টায়  গিয়েও দেখা গেছে ক্লিনিক বন্ধ।

ডা. খাদিজা নাহিদ ইভা রংপুরে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের চিকিৎসক। তিনি গত মঙ্গলবার রাতে রোগীকে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে দিয়ে রংপুর চলে যান।

তবে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের ১ নম্বর ইউনিটের ডা. জাহানারা বেগম মুন্নি মোবাইল ফোনে জানান, প্লাসেন্টিয়া প্রিভিয়ার (জরায়ুর সঙ্গে ফুল জড়িয়ে যাওয়া) কারণে রক্তক্ষরণ হওয়ায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে পিরোজপুরে মুসলিম এইড কমিউনিটি হাসপাতালে মারা যাওয়া শিশুটির বাবা মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানান, গত ১০ জুন তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মরিয়মকে ওই হাসপাতালের ২০২ নম্বর কেবিনে ভর্তি করা হয়। ওই দিন বিকেল ৩টার দিকে ক্লিনিকের পক্ষ থেকে বাইরে থেকে আনা ডা. জান্নাতুল মাওয়ার মাধ্যমে মরিয়মের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। এতে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে (যমজ) সন্তানের জন্ম হয়। ডা. জান্নাতুল মাওয়া চলে যাওয়ার পর ওই হাসপাতালের ডা. চঞ্চল গোলদারের চিকিৎসা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ডা. চঞ্চল তিন দিন ধরে ছুটিতে থাকায় নার্সরা দিনে একবার দেখে যেত। গতকাল সকালে ছেলে শিশুটি অসুস্থ হয়ে মারা যায়।

ডা. জান্নাতুল মাওয়া বলেন, ‘সিজারে কোনো সমস্যা হয় নাই। আমি ওখানে শুধু সিজারের জন্য যাই। ওই হাসপাতালে সিজার-পরবর্তী সময় সার্বক্ষণিক একজন ডাক্তার থাকার কথা।


মন্তব্য