kalerkantho


মহাস্থানগড়

বেরিয়ে এলো প্রাচীন স্থাপত্য

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

১৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০



বেরিয়ে এলো প্রাচীন স্থাপত্য

বগুড়ার মহাস্থানগড়ে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে বেরিয়ে এসেছে প্রাচীন স্থাপত্য। ছবিটি গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

বগুড়ার মহাস্থানগড়ে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে বেরিয়ে এসেছে ১৩০০ বছরের প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শন। সেই সঙ্গে খ্রিস্টপূর্ব সময় থেকে শুরু করে মুসলিম শাসনামলের সমৃদ্ধ প্রত্নসামগ্রীও পাওয়া গেছে। সেখান থেকে প্রাপ্ত প্রত্নসামগ্রী নিশ্চিত করেছে মহাস্থানগড় প্রাচীন যুগেও ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে ছিল সমৃদ্ধ।

প্রায় আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন নগরী মহাস্থানগড়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খননকালে এসব নিদর্শনের সন্ধান মেলে। গত ১৫ মে থেকে এই খননকাজ শুরু হয়েছে।

মহাস্থানগড় ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে খনন করা হয়েছে। খননের বিভিন্ন পর্যায়ে এখানে বেরিয়ে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ সব প্রত্ন নিদর্শন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৩ সাল থেকে বাংলাদেশ ও ফ্রান্স সরকার যৌথভাবে খননকাজ পরিচালনা করে আসছে। পাশাপাশি নিজস্ব অর্থায়নেও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর খনন পরিচালনা করছে। এবারও গড়ের জাহাজঘাটা ও বৈরাগীর ভিটার তিনটি স্থানে নিজস্ব অর্থায়নে শুরু হয়েছে খননকাজ।

বৈরাগীর ভিটায় গত বছর খননের পর প্রায় এক হাজার ৩০০ বছর আগে নির্মিত তিনটি বুদ্ধমন্দিরের নিদর্শন মেলে। এবারও সেখানে মন্দিরগুলোর পূর্ণ অবয়ব নিশ্চিত করতে খননের পাশাপাশি চলছে সংস্কার ও সংরক্ষণের কাজ।

এবারের খননকাজে সাত সদস্যের দলের মাঠ পরিচালক হিসেবে আছেন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা। খননকাজের দুই ভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুই দলনেতা। এর মধ্যে বৈরাগীর ভিটায় দলনেতার দায়িত্বে আছেন মহাস্থান জাদুঘরের কাস্টডিয়ান সহকারী পরিচালক মুজিবুর রহমান। জাহাজঘাটার দলনেতার দায়িত্বে আছেন পাহাড়পুর জাদুঘরের কাস্টডিয়ানের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক সাদেকুজ্জামান।

খনন দলের সদস্য এস এম হাসানাত বিন ইসলাম জানান, জাহাজঘাটার পূর্বাংশে যে খননকাজ পরিচালনা করা হচ্ছে সেখানে বেশ কয়েকটি কক্ষের সন্ধান মিলেছে। আরো মিলেছে ধান-চালসহ শস্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত বৃহদাকার মাটির পাত্রের ভগ্নাংশ। এ ছাড়া গৃহস্থালির কাজে ব্যবহৃত মৃৎপাত্র ও অনেক পাত্রের ভগ্নাংশ উদ্ধার হয়েছে। যে কক্ষগুলোর সন্ধান মিলেছে তা অন্য কোনো স্থাপনায় ব্যবহৃত পুরনো ইটের টুকরা দিয়ে নির্মিত। সেই সঙ্গে মিলেছে পাতকুয়া।

জাহাজঘাটা খননকাজের দলনেতা সাদেকুজ্জামান জানান, জাহাজঘাটার মধ্যভাগে খননে বেরিয়ে এসেছে ঘনবসতির নিদর্শন। সেখানকার মাটির তলদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ মৃৎপাত্রের টুকরা উদ্ধার হয়েছে। সরু পথের নিদর্শনের পাশাপাশি বসতবাড়ির চিহ্ন মিলেছে। স্থাপত্যশৈলীর পাশাপাশি বেশ কিছু প্রত্নবস্তুর সন্ধান মিলেছে। এর মধ্যে রয়েছে উত্তরাঞ্চলীয় উজ্জ্বল চকচকে কালো মৃৎপাত্র (এনবিপিডাব্লিউ), বিভিন্ন যুগের মৃৎপাত্রের ভগ্নাংশ, পোড়া মাটির বাটি ও পোড়া মাটির গুটিকা। উদ্ধার হওয়া এসব প্রত্নবস্তু মহাস্থান জাদুঘরের গবেষণাগারে নিয়ে সেখানে পরিচ্ছন্ন করে সংরক্ষণ করছেন খনন সম্পৃক্তরা।

 



মন্তব্য