kalerkantho


শ্রমিকের বদলে মেশিন বরাদ্দ লোপাট

সুনামগঞ্জে খাল খনন

শামস শামীম, সুনামগঞ্জ   

১৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০



শ্রমিকের বদলে মেশিন বরাদ্দ লোপাট

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার টলামারা খাল খননের সময়ের ছবি। কাটার দাগ দেখে বোঝা যাচ্ছে যন্ত্রের ব্যবহার। ছবি : কালের কণ্ঠ

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার টলামারা খাল খননে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে দুস্থ, স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়া নারীসহ হতদরিদ্র পুরুষদের নিয়ে গঠিত এলসিএসের (লেবার কন্ট্রাক্টিং সোসাইটি) মাধ্যমে খাল খননের নির্দেশনা থাকলেও এক্সকাভেটর মেশিনে খনন করা হয়েছে। ফলে শ্রমিকরা অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

অন্যদিকে মেশিনে মাটি কেটে শ্রমিক দেখিয়ে বিল তুলে বরাদ্দ লোপাট করছে একটি সিন্ডিকেট।

জানা গেছে, প্রকল্পে শ্রমিকদের মাধ্যমে প্রতি ঘনমিটার মাটি ১৩৬ টাকা মূল্যে কাটানোর কথা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা শ্রমিকদের কাজে না লাগিয়ে এক্সকাভেটর মেশিন এনে মাটি কেটে এখন ৭২ জন শ্রমিকের নামে মাস্টাররোল করে বিল তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরই মধ্যে বেশির ভাগ বিলই উত্তোলন হয়ে গেছে। উল্লেখ্য, এক্সকাভেটর মেশিনে কাটা প্রতি ঘনমিটার মাটির মূল্য ধরা ছিল ১১৮ টাকা। এক ফুট গভীর ও ১০ ফুট প্রস্থে মাটি খননের কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। চার-পাঁচ ফুট প্রস্থে মাটি কেটে একদম তীরেই ফেলা হয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। ফলে আবার খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে কৃষকরা। তা ছাড়া চৈত্র মাসে নিদানকালে (অভাব) শ্রমিকরা বেকার থাকার পরও তাদের কাজে না লাগিয়ে মেশিনে মাটি কাটানোয় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সদর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, হাওর অঞ্চলের বন্যা ব্যবস্থাপনা ও জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পে (এইচএফএমএলআইপি) লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের টলামারা খালের চেইন ৩৫০-১৩৫০ মিটার পর্যন্ত খননের জন্য জাইকা (জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা) প্রায় ১৬ লাখ ৫৬ হাজার ৮২৬ টাকা বরাদ্দ দেয়। এলজিইডি এলসিএস কমিটির ৭২ জন শ্রমিককে দিয়ে খাল খনন করার কথা। গত ১৮ এপ্রিল এই প্রতিবেদক সংশ্লিষ্ট এলাকায় গিয়ে দেখেন, শ্রমিকের বদলে একটি এক্সকাভেটর মেশিনে মাটি কাটা হচ্ছে। মাটি কাটানোয় গভীরতা ও প্রস্থ মানা হচ্ছে না। শানুর মিয়া নামের এক ব্যক্তি মেশিনের চালককে মাটি কাটার নির্দেশনা দিতে দেখা যায়।

স্থানীয় এলসিএস সদস্য কফিল উদ্দিন বলেন, ‘আমি সমিতির সদস্য ছিলাম। নারীদের ভোটার আইডি কার্ড, ছবিসহ নানা তথ্য সংগ্রহ করে দিয়েছিলাম। অফিসের কথা অনুযায়ী তাদের বলেছিলাম তারা মাটি কেটে মজুরি পাবে। কিন্তু আমাদের দিয়ে মাটি কাটানো হয়নি। আমরা এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর অভিযোগ করেছিলাম।’ সমিতির আরেক সদস্য কান্দাগাঁও গ্রামের আব্দুল খালেক বলেন, ‘মেশিন দিয়ে মাটি কাটা হয়েছে। তাই আমরা কাজ করতে পারিনি। এতে আমরা বঞ্চিত হয়েছি।’

কৃষকরা জানিয়েছে, সমিতির দুজন নেতৃস্থানীয় লোক প্রকল্প ও এলজিইডির সংশ্লিষ্টদের হাত করে বরাদ্দ লোপাটের জন্য মেশিনে মাটি কাটিয়েছে।

সদর উপজেলা এইচএফএমএলআইপি (হাওর অঞ্চলের বন্যা ব্যবস্থাপনা ও জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প) সহকারী মো. মোসাব্বির বলেন, মাটি কাটায় প্রস্থ ও গভীরতা ঠিক রাখা হয়েছে। শ্রমিকের বদলে মেশিনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মাটি কাটা হয়েছে বলে স্বীকার করে তিনি আরো বলেন, প্রায় ৮৫ শতাংশ কাজ হয়ে গেছে। তবে সদর উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, শতভাগ কাজ হয়েছে। শ্রমিক ও মেশিনের আলাদা মূল্য নির্ধারিত আছে। এটা সমন্বয় করেই বিল দেওয়া হবে। শ্রমিক না পাওয়ায় মেশিন দিয়ে মাটি কাটানো হয়েছে। এতে দুর্নীতি হয়নি।



মন্তব্য