kalerkantho


সংরক্ষণের অভাবে আনারসে কম দাম

আবদুল হামিদ মাহবুব, মৌলভীবাজার    

১৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০



মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে এ বছর আনারসের খুব ভালো ফলন হয়েছে। কিন্তু প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা না থাকায় পচনশীল এই ফল সংরক্ষণ করতে পারছে না চাষিরা। ফলে দ্রুত কম দামে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছে। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চাষিরা।

রমজান শুরু হওয়ার আগ থেকে আনারস পাকতে শুরু করে। প্রতিদিন ভোরে শত শত ঠেলাগাড়ি ও পাহাড়ি রাস্তায় চলাচলকারী জিপ গাড়ি বোঝাই করে বাজারে আনারস আসছে। আমদানির তুলনায় ক্রেতা কম থাকায় চাষিদের স্বল্পমূল্যে আনারস বিক্রি করে দিতে হচ্ছে। পাইকাররা শ্রীমঙ্গলের আনারস কিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠাচ্ছেন।

শ্রীমঙ্গলের পুরান বাজার ও নতুন বাজার হচ্ছে আনারস কেনাবেচার বড় পাইকারি বাজার। এখানকার আড়তগুলোতে প্রতিদিন ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত আনারস কেনাবেচা হয়। এখান থেকে পাইকাররা ট্রাকবোঝাই করে আনারস নিয়ে যান।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন মোনালিসা সুইটি বলেন, এ বছর শ্রীমঙ্গল উপজেলায় আনারস চাষ হয়েছে ৩০৪ হেক্টর পাহাড়ি টিলায়। শ্রীমঙ্গলের মাটি, আবহাওয়া ও জলবায়ু অনুকূলে থাকায় এখানে উঁচুনিচু পাহাড়ি টিলায় প্রচুর আনারসের চাষ হয়। উপজেলার বিষামণি, মাইজদিহি, হোসেনাবাদ, এম আর খান, নন্দরানী, বালিশিরা, নূরজাহান, ডলুছড়া, সাতগাঁও, মোহাজেরাবাদ, মাধবপুর, মাঝেরছড়া, পুরানবাড়িসহ প্রতিটি এলাকায় প্রচুর আনারস হয়েছে। জাত ও মানভেদে প্রতিটি আনারস বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ৩০ টাকা দামে। মৌসুমি এ ফল সংরক্ষণ করে রেখে যদি পরবর্তী সময়ে বিক্রি করা সম্ভব হতো, তাহলে চাষিরা আরো বেশি দাম পেত বলে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান। আনারস চাষি সাইদুল ইসলাম শাহেদ বলেন, এবার শ্রীমঙ্গলে আনারসের ভালো ফলন হয়েছে। তবে দাম কম।

মৌলভীবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শাহজাহান বলেন, শ্রীমঙ্গলে মৌসুমি ফলের মধ্যে আনারসের ফলন অনেক ভালো হয়েছে। এখন একসঙ্গে পাকতে শুরু করেছে। আনারস পচনশীল হওয়ায় সংরক্ষণ করতে পারছে না কৃষকরা। ফলে কম দামে বিক্রি করে দিতে হচ্ছে।



মন্তব্য