kalerkantho


নবীগঞ্জ

‘আপনজনে’র ফাঁদে অনেকেই নিঃস্ব

শাহ ফখরুজ্জামান, হবিগঞ্জ    

১৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০



‘আপনজনে’র ফাঁদে অনেকেই নিঃস্ব

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় ‘সবার জন্য শিক্ষা’ এই স্লোগান সামনে নিয়ে আপনজন ইন্টারন্যাশনাল এম. এল. এম কম্পানির নামে ধোঁকা দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সহায়সম্পত্তি বিক্রি করে গ্রাহক হয়ে অনেকেই এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আপনজন নামের ওই কম্পানির ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের এনাতাবাদ গ্রামের মো. কাছন মিয়ার ছেলে মো. ফরিদ উদ্দিন এবং তাঁর সঙ্গে রয়েছেন বানিয়াচং উপজেলার বড়ইউড়ি ইউনিয়নের গুনই গ্রামের বর্তমানে নবীগঞ্জ শহরতলির রুদ্র গ্রাম রোডের মুজিব অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিক মো. আব্দুল আউয়াল মিয়ার ছেলে মো. রাসেল মিয়া, নবীগঞ্জ উপজেলার বড়ভাকৈর পশ্চিম ইউনিয়নের আমড়াখাইড় গ্রামের মো. আমিনুল ইসলাম, হবিগঞ্জ শহরের ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্সের ইনচার্জ মো. শরিফ উদ্দিন, সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার মসকাপুর গ্রামের মো. সাইফুল আলমের ছেলে মো. খালেদ মিয়া। তাঁরা আপনজন ইন্টারন্যাশনাল কম্পানিতে কাজ করলে কোনো চাকরির প্রয়োজন হবে না বলে গ্রাহকদের প্রলুব্ধ করেন। প্রতি মাসে ২০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকা আয় করা সম্ভব বলেও তাঁরা গ্রাহকদের লোভ দেখান। অবশেষে ওই কম্পানির মালিক বানিয়ে দেওয়া হবে বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে তাঁরা টাকা আদায় করেন। তাঁদের কথা বিশ্বাস করে সহজ-সরল লোকজন নগদ টাকা বা পণ্য ক্রয়ের মাধ্যমে গ্রাহক হয়েছেন। এখন কোনো গ্রাহক ফোন দিলে তাঁরা ফোন রিসিভ করেন না। সাক্ষাৎ করলে তাঁদের সঙ্গে টালবাহানা করা হয়।

ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে করগাঁও ইউপি যুবলীগের আহ্বায়ক ও শাকোয়া গ্রামের আব্দুল কদ্দুস সাগরের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৪২ হাজার টাকা, কাজীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেনের (মেম্বার) কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৪২ হাজার টাকা, নবীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী এস এম ক্লথ স্টোরের মালিক মো. রেজাউল করিম মানিকের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৫০ হাজার টাকা, ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের ঘোলডোবা গ্রামের মো. জামেউল আলমের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৪২ হাজার টাকা। শুধু তাঁরা নন; তাঁদের মতো আরো অনেকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে আপনজন ইন্টারন্যাশনাল কম্পানির লোকজন। এ ঘটনায় ওই কম্পানির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। করগাঁও ইউপি যুবলীগের আহ্বায়ক আব্দুল কদ্দুস সাগর বলেন, ‘আমার মতো অনেকেই এই হায় হায় কম্পানির ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হয়েছেন। এদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।’

এদিকে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা এনাতাবাদ গ্রামের মো. কাছন মিয়ার ছেলে মো. ফরিদ উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি আপনজন কম্পানির একজন গ্রাহক। প্রত্যেক ইউনিয়নে আমার মতো অনেক লোক আছে। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্র।’ নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তৌহিদ বিন হাসান জানান, এ ব্যাপারে কেউ তাঁর কাছে লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



মন্তব্য