kalerkantho


টঙ্গিবাড়ীতে খাসজমির মাটি বিক্রি ভাটায়

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি   

১১ জুন, ২০১৮ ০০:০০



টঙ্গিবাড়ীতে খাসজমির মাটি বিক্রি ভাটায়

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার রায়পুরা গ্রামে সরকারি খাসজমির মাটি ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। ছবিটি গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ রায়পুরা গ্রামে সরকারি খাসজমির মাটি ইটভাটায় বিক্রির ধুম পড়েছে। ধলেশ্বরী নদীর দুই পার থেকে দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি এভাবে মাটি কেটে বিক্রি করলেও প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উত্তর রায়পুরা গ্রাম থেকে সরকারি পুকুরপারের মাটি বিক্রি করছেন আব্দুল মতিন ওরফে কোটিপতি। মাটি কেটে ট্রাকে তুলছে শ্রমিকরা আর পাশেই বসে আছেন আব্দুল মতিন। প্রতিদিন প্রায় ১০০ ট্রাক মাটি বিক্রি হয় বলে জানা গেছে। এসব ট্রাক যাতায়াতের কারণে বেতকা বাজার থেকে রায়পুরা পর্যন্ত রাস্তাটি যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। কাঁচা রাস্তায় মাটিভর্তি ট্রাক যাতায়াতের কারণে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে একটু বৃষ্টি হলেই কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় এলাকাবাসীকে। কিন্তু কোটিপতি এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস করে না।

এ ব্যাপারে কোটিপতি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগত জমির মাটি কেটে বিক্রি করছি। কোনো সরকারি জমির মাটি বিক্রি করছি না।’ রাস্তার ক্ষতির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি রাস্তা সংস্কার করে তারপর ট্রাক দিয়ে মাটি নিচ্ছি।’

এদিকে ধলেশ্বরী নদীর দক্ষিণ পার থেকে সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমির মাটি কেটে বিক্রি করছেন আবুল কাশেম দেওয়ানের ছেলে কামাল, একই এলাকার রসিদ খান ও রফিজ খান। কামাল তার আপন চাচা আইয়ুব আলী দেওয়ানের ছেলে সোহেলকে দিয়ে ইটভাটায় এই মাটি বিক্রি করেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধলেশ্বরী নদীতে ২০-২৫টি ট্রলার রেখে তার মধ্যে মাটি কেটে ভরা হচ্ছে। এতে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন বেড়ে গেছে। জানতে চাইলে সোহেল বলেন, ‘আমরা আমাদের জমি থেকে মাটি বিক্রি করছি।’

এ ব্যাপারে টঙ্গিবাড়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাবিরুল ইসলাম জানান, কিছু মাটি বিক্রেতাকে কাগজপত্র নিয়ে অফিসে আসতে বলেছি কিন্তু তারা আসেনি। অবৈধভাবে যারা মাটি বিক্রি করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 



মন্তব্য