kalerkantho


নড়াইল ভিক্ষুকমুক্ত তবে...

নড়াইল প্রতিনিধি   

১১ জুন, ২০১৮ ০০:০০



২০১৭ সালের এপ্রিলে নড়াইল জেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা করে প্রশাসন। এরপর কার্যত এ জেলায় ভিক্ষুক দেখা যায়নি। তবে একটি পরিবারকে পাওয়া গেছে, যারা যশোরে গিয়ে ভিক্ষা করে।

হেমেলা জানান, স্বামী বাকু বিশ্বাস চাচুড়ী বাজারে ছাতা সারাই এবং দিনমজুরের কাজ করতেন। তাঁদের সন্তান লাকিমা বেগম, রাকিয়া, হাফিজুর বিশ্বাস ও আজিজুর বিশ্বাস জন্মান্ধ। স্বামীর ওপর চাপ বাড়তে থাকলে তিনি অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে যান। সারা দিন ছেলে-মেয়েদের না খেয়ে থাকা, অসুস্থ স্বামীর পথ্য জোগাড় করতে না পেরে তিনি ভিক্ষা শুরু করেন।

পুনর্বাসিত ভিক্ষুকরা দোকান, ব্যবসা, হাঁস-মুরগি, গরুসহ কত কিছু পেয়েছে। শুধু কিছুই জোটেনি হেমেলা ও তাঁর জন্মান্ধ সন্তানদের।

হেমেলা বলেন, ‘কত জনরে কত কথা বললাম, কেউ তো কিছু করল না। ১৫ বছর আগে আমি বিধবা হইছি। ভিক্ষে করে খাই। আমি কি একটি বিধবা কার্ড পাতি পারতাম না? আমার পরে যারা বিধবা হইছে তাগের অনেকেই তো কার্ড পাইছে, তালি আমার দোষ হবে ক্যা?’

নড়াইলকে ভিক্ষুকমুক্ত করা হয়েছে, এটা আপনি জানেন। এখানে তো  ভিক্ষা বন্ধ—এমন কথার উত্তরে হেমেলার জবাব, ‘ভিক্ষুকদের দেখলেই প্রশাসনের লোকেরা তেড়ে আসে। বাধ্য হয়ে ছেলেদের যশোরে ভাড়া বাড়িতে রেখে ভিক্ষা করাই।’

কালিয়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ১৫ বছর বিধবা হওয়ার পরও ভাতা না পাওয়া দুঃখজনক।

নড়াইলের জেলা প্রশাসক মো. এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, ‘পরিবারটি অসহায় হলে আমরা তার জন্য সব সহযোগিতা করব।’



মন্তব্য