kalerkantho


দেড় শতাধিক ব্যবসায়ীর মাথায় ঝুঁকিপূর্ণ ছাদ

এম সাইফুল মাবুদ, ঝিনাইদহ   

১১ জুন, ২০১৮ ০০:০০



দেড় শতাধিক ব্যবসায়ীর মাথায় ঝুঁকিপূর্ণ ছাদ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ বাজারে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের নিচে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বেচাকেনা করছে ব্যবসায়ীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহরের প্রধান কাঁচাবাজারের একতলা ভবনটি গত পাঁচ বছর আগে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের এই বাজারের দোকানের ওপর সংসার চলে। তাই নতুন ভবন তৈরি না হওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখানেই ব্যবসা করছে তারা।

ব্যবসায়ীরা বলছে, বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা করতে হচ্ছে তাদের। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভবনটি সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ না নিয়ে তাদের ভবন ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে। এরই মধ্যে ভবনের সামনে ঝুঁকিপূর্ণ সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়ায় পর তাদের বেচাকেনা অনেক কমে গেছে।

জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে ভবনটি নির্মাণ করা হয়। স্থানীয়ভাবে হাট-চাঁদনী বলে পরিচিত এই ভবনে ১৫২টি দোকান রয়েছে, যার বেশির ভাগ কাঁচা সবজি, চাল ও মুদি দোকান। এর দুই পাশে রয়েছে আরো দুটি টিনশেড ভবন। ভবন দুটির একটিতে আটা-ময়দা, অপরটিতে মাছ-মাংস বিক্রি হয়। তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান রফি উদ্দিনের প্রচেষ্টায় প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ভবনগুলো নির্মাণ করা হয়। ভবনগুলো বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

গত শুক্রবার সরেজমিনে ওই বাজার ঘুরে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে। ছাদের পলেস্তারা খুলে পড়ছে। ব্যবসায়ীরা নিজেদের বাঁচাতে ছাদের নিচে বাঁশ ও বাঁশের চটা দিয়ে রেখেছে। ভবনের ফাটল ধরা ছাদও বাঁশ দিয়ে প্যালা দিয়ে রাখা হয়েছে। বাজারের ব্যবসায়ী মিন্টু মণ্ডল জানান, তিনি ২০ বছর ধরে বাজারে ব্যবসা করছেন। তাঁদের মধ্যে ভবন ধসে পড়ার ভয় দিন দিন বাড়ছে। আরেক ব্যবসায়ী আনারুল ইসলাম বলেন, ‘জীবনটা হাতের মুঠোয় নিয়ে ব্যবসা করছি। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এই মৃত্যুখাঁচায় পড়ে আছি। যেকোনো সময় ভবনটি ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।’ ব্যবসায়ী আমিনুর ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েই কর্তৃপক্ষ তাদের দায়িত্ব শেষ করেছে। সরকারিভাবে ভবনটি নির্মাণ বা সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা জানায়, ২০১০ সালের ২৫ অক্টোবর ছাদের একটি অংশ ভেঙে মাথায় পড়ে চাল ব্যবসায়ী অজয় কুমার মৃত্যুবরণ করেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের মধ্যে বেশ নড়াচড়া হয়। কয়েক দফা তদন্তও হয়। পরে এ বিষয়ে আর কোনো কিছুই লক্ষ করা যায়নি।

কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ভবনটির নির্মাণকাজে অনেক ত্রুটি ছিল। এ ছাড়া ছাদের পাশ দিয়ে রেলিং করায় বৃষ্টির সময় পানি জমে। ফলে অল্প সময়ে ভবনটি নষ্ট হয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল ওহাব বলেন, ২০১৩ সালে তাঁরা একটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। এরপর ব্যবসায়ীদের ওই জায়গা থেকে সরে যেতে বলা হয়; কিন্তু তারা যাচ্ছে না। ভবনটি ভেঙে পুনর্নির্মাণের জন্য মন্ত্রাণালয়ে বরাদ্দ চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু হবে। 

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার বলেন, ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ব্যবসায়ীদের সরে যেতে বলা হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব ভবনটি ভেঙে আরেকটি নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে।



মন্তব্য