kalerkantho


শপথ করল নরসিংদীর নজরপুরবাসী

সহস্রাধিক টেঁটা সমর্পণ

নরসিংদী প্রতিনিধি   

১১ জুন, ২০১৮ ০০:০০



সহস্রাধিক টেঁটা সমর্পণ

নরসিংদীর সদর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলে সংঘর্ষে টেঁটা ব্যবহারকারীরা গতকাল অস্ত্র সমর্পণ করে। ছবি : কালের কণ্ঠ

নরসিংদী সদর উপজেলার নজরপুর ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চল আলীপুরা, বাহেরচর ও নজরপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায়ই টেঁটাযুদ্ধ হয়। এতে প্রাণহানিও হয়েছে অনেক।

তবে জীবনে আর কোনো দিন টেঁটাযুুদ্ধে লিপ্ত হবে না—এই শপথ করে গতকাল রবিবার সহস্রাধিক টেঁটা পুলিশের কাছে জমা দিয়েছে ওই এলাকার লোকজন। নরসিংদী পৌর মেয়র মো. কামরুজ্জামান কামরুল ও পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন তাদের বুঝিয়ে টেঁটা সমর্পণে রাজি করান।

আলীপুর এলাকার মো. সিরাজুল ইসলাম ও কামাল মেম্বার, মো. শাহজাহান মনা ও কাজী আরমান, বাহেরচর এলাকার মো. বাচ্চু ভূইয়া ও রমজান মেম্বার, নজরপুর এলাকার মো. মোশারফ হোসেন ও মো. আকরাম ফকির, মো. কুদ্দুস মেম্বার ও আবদুল হাকিম, আবদুল জলিল বকসী ও মো. আলতাফ বকসীসহ মোট ১৪টি পক্ষের লোকজন সহস্রাধিক টেঁটা জমা দেয়।

নজরপুর ইউনিয়নের আলীপুরা বাজারে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বাদল সরকারের সভাপতিত্বে এই টেঁটা সমর্পণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পৌর মেয়র মো. কামরুজ্জামান কামরুল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহরিয়ার আলম, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অলিউর রহমান আজিম, শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন বাচ্চু, সদর মডেল থানার ওসি মো. সৈয়দুজ্জামান, পরিদর্শক (অপারেশন) মোজাফফর হোসেন প্রমুখ।

টেঁটা জমা দিয়ে অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে আলীপুরা এলাকার সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে খুব ভালো লাগছে। এ বর্বরতার সংঘর্ষ আর নয়। এই এলাকায় আধিপত্য নিয়ে আমি আর কোনো দিন নিজে সংঘর্ষে জড়াব না আর কাউকে জড়াতে দেব না। আমার জন্য এত দিন যাঁরা দুর্ভোগে ছিলেন আমি তাঁদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বাদল সরকার বলেন, ‘আজকে মেয়র মহোদয় ও পুলিশ সুপারের কাছে আপনারা এলাকাবাসী টেঁটা সংঘর্ষ না করার যে অঙ্গীকার করেছেন এর ব্যত্যয় ঘটলে আপনাদের পাশে আমরা কেউ থাকব না।’

পৌর মেয়র মো. কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, ‘চরাঞ্চলের টেঁটা সংঘর্ষ মূলত হয় গুটিকয়েক স্বার্থান্বেষী লোকের জন্য। আর তাদের এ সংঘর্ষের মূল কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে এলাকায় আধিপত্য। আমরা স্থানীয় জনসাধারণকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি যে এসব সংঘর্ষে লাভ শুধু কয়েকজনের আর ক্ষতি সর্বসাধারণের। তারা আমাদের কথা আমলে নিয়ে এ সংঘর্ষে জড়াবে না বলে অঙ্গীকার করেছে।’

পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আসলে চরের বাসিন্দারা খুব নরম মনের। তারা আবেগে পড়ে এ বর্বরতায় লিপ্ত হয়। এতে তাদের নিজস্ব কোনো স্বার্থ হাসিল হয় না। আমরা তাদের ভয় নয়, তাদের মধ্যে সচেতনতা ও বিবেকবোধটুকু জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। তারা আমাদের কাছে অস্ত্র জমা দিয়েছে। আশা করছি তারা তাদের ভুলগুলো বুঝতে পেরেছে।’



মন্তব্য