kalerkantho


রেলে মৃত্যুফাঁদ পদচারী সেতু

ফরিদুল করিম, নওগাঁ   

১১ জুন, ২০১৮ ০০:০০



রেলে মৃত্যুফাঁদ পদচারী সেতু

সেতুর ওপর সতর্কবার্তা টাঙিয়েছে রেলওয়ে। ছবি : কালের কণ্ঠ

রেলওয়ের পদচারী সেতু (ফুট ওভারব্রিজ) সাধারণত ১৭ থেকে সাড়ে ১৭ ফুট উঁচু হয়। কিন্তু নওগাঁর রানীনগরে রেলস্টেশনের সেতুর উচ্চতা ১৫ ফুট ৩ ইঞ্চি। যেখানে ট্রেনের উচ্চতা ১৩ ফুট ৬ ইঞ্চি। এ কারণে ট্রেনের ছাদে যাত্রী থাকলে এই স্টেশন পার হওয়ার সময় ঘটে দুর্ঘটনা।

এর আগে প্রাণহানি ঘটলেও কর্তৃপক্ষ এই সেতু সংস্কার বা অপসারণ করেনি। অথচ ঈদের সময় যাত্রীরা সিট ও ভেতরে দাঁড়ানোর জায়গা না পেয়ে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করে। যা এই অঞ্চলের মানুষের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। এদিকে দুদিন আগে সেতুতে একটি সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড টাঙিয়েছে রেলওয়ে। তবে স্থানীয়রা বলেন, দ্রুতগামী ট্রেনের ছাদের যাত্রীরা কখনোই সাইনবোর্ড পড়ার সময় পাবেন না। তার আগেই সেতুর গার্ডারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ঘটে যেতে পারে দুর্ঘটনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দিনাজপুরগামী দ্রুতযান ট্রেনের ছাদে ভ্রমণরত যাত্রীদের মধ্যে সাতজন এই সেতুতে ধাক্কা খেয়ে নিচে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলে চারজন মারা যান। বাকি তিনজন গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো দুজন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পরদিন মারা যান। এরপর রেলওয়ের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা এসে সেতু সংস্কারের আশ্বাস দেন। এরপর চার মাস পার হলেও কোনো অগ্রগতি নজরে পড়েনি।

রেলওয়ের একটি সূত্র জানায়, রানীনগর রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন উড়াল সেতুটি যাত্রী ও সর্বসাধারণের সুবিধার্থে নির্মাণ করা হয়। এই সেতুর নিচ দিয়ে প্রতিদিন ১১টি ট্রেন চলাচল করে। ব্রিটিশ আমলে তৈরি লাইন মাঝেমধ্যে সংস্কার করা হয়। এতে লাইনের উচ্চতা কিছুটা বাড়লেও সেতু আগের উচ্চতায় রয়েছে। এ কারণে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণকারীরা অসাবধানতাবশত প্রায়ই সেতুর গার্ডারের সঙ্গে ধাক্কা খান।

রেলওয়ের পশ্চিম অঞ্চলের স্টেশনের ক্যাটাগরি মোতাবেক অধিকাংশ স্টেশনে পদচারী সেতু আছে। সবগুলোতে কমবেশি প্রাণহানি ঘটে। তবে রানীনগর স্টেশনে হতাহতের ঘটনা বেশি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার রেলওয়ে জংশনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করা বাংলাদেশ রেলওয়ে আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু ঈদের মৌসুমে এটা যাত্রীদের মানানো যায় না।’

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বেশ কিছু দিন আগে রানীনগর রেলস্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। স্টেশন মাস্টার না থাকায় নজরদারি কমে গেছে। এ কারণে দুর্ঘটনা বেড়েছে।

নিরাপদ সড়ক চাই রানীনগর উপজেলা শাখার সভাপতি সাইদুজ্জামান সাগর বলেন, ‘একই স্থানে বারবার প্রাণহানি ঘটলেও কর্তৃপক্ষ সেতু সংস্কার বা পুনঃ স্থাপন করেনি। দ্রুত এই মৃত্যুফাঁদ সংস্কার করা হোক।’

বাংলাদেশ রেলওয়ে পাকশী বিভাগীয় প্রকৌশলী (সেতু) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘পদচারী সেতুটি সংস্কারের মাধ্যমে উঁচু করার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। খুব দ্রুত এর জন্য দরপত্র ডাকা হবে। অল্পদিনের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে। বর্তমান যে ১৬ ফুট উচ্চতা আছে তার থেকে বাড়িয়ে ২১ ফুট করা হবে।’



মন্তব্য