kalerkantho


পঞ্চগড় পৌরসভা

নামে প্রথম সেবায় তৃতীয়

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

২৭ মে, ২০১৮ ০০:০০



নামে প্রথম সেবায় তৃতীয়

ডাস্টবিনে ময়লা সারাদিন পড়ে থাকে। পৌর কর্তৃপক্ষ অপসারণ না করায় চারপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। পথচারীরা হাঁটতে পারে না। আশপাশের বাড়ির বাসিন্দাদের পেটেরপীড়া হয়। ছবিটি গতকাল পঞ্চগড় পৌর শহরের কাঁচাবাজার থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

পঞ্চগড় পৌরসভাকে অনেক আগেই প্রথম শ্রেণির মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পৌর নাগরিকদের মতে, সেবায় তৃতীয় শ্রেণির পৌরসভার মতো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে তারা। এখানকার রাস্তাঘাট জরাজীর্ণ। রাতে ল্যাম্পপোস্টে বাতি জ্বলে না। সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নেই। ধুলাবালি আর মশায় অতিষ্ঠ পৌরবাসী। বছরের পর বছর নাগরিকরা পৌর কর দিয়ে এলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না। এ জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা এবং সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবকে দায়ী করছে পৌরবাসী।

১৯৮৫ সালে পঞ্চগড় জেলা সদরের প্রায় ২২ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে পঞ্চগড় পৌরসভার যাত্রা শুরু হয়। পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণিভুক্ত হওয়ারও ১০ বছর পেরিয়ে গেছে। শুরু থেকে নাগরিকরা তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছিল। আশা ছিল, পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হলে হয়তো নাগরিকদের সেবার মান বাড়বে। কিন্তু তাদের প্রত্যাশা আজও পূরণ হয়নি।

পৌর নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পঞ্চগড় পৌরসভা জেলা শহরের জালাসী এলাকা থেকে রামেরডাঙ্গা, মিঠাপুকুর থেকে ১৮ বিজিবি সদর পর্যন্ত বিস্তৃত। জনসংখ্যা প্রায় ৬৫ হাজার। পৌরসভার ভেতরের বেশির ভাগ রাস্তার ইট উঠে গেছে। রাস্তায় বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বছরের পর বছর এসব রাস্তা দিয়ে সাধারণ মানুষ চলতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়লেও কর্তৃপক্ষের চোখে যেন কুম্ভকর্ণের ঘুম। তাদের দৃষ্টি পড়ছে না এসব রাস্তার ওপর। পৌরসভার উত্তর জালাসীসহ বেশ কয়েকটি স্থানে প্রায় এক বছর ধরে কাঁচা রাস্তা পাকা করার জন্য খুঁড়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু রাস্তা খুঁড়ে কাজ শেষ না করায় উপকারের চেয়ে ভোগান্তি আরো বেড়েছে।

প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও এখানে নেই সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। বেশির ভাগ এলাকায় নেই ডাস্টবিন। তাই পৌর বাসিন্দারা যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলছে। দু-তিন মাস পর পর ড্রেনের ময়লা উঠিয়ে রাস্তার ওপর রাখা হয়। এ কারণে পথচারীদের দুর্গন্ধ পোহাতে হয়। এ ছাড়া বছরে একবার মাত্র মশক নিধনের জন্য স্প্রে করা হয়। মশার কামড়ে অতিষ্ঠ এলাকার সবাই। বর্তমানে ময়লা-আবর্জনা আর ধুলাবালিতে পৌরসভার রাস্তাঘাট একাকার। সবচেয়ে বেশি ধুলা করতোয়া সেতু থেকে ধাক্কামারা পর্যন্ত। তাই একে মশা আর ধুলার পৌরসভা বললেও ভুল হবে না।

পৌরসভা থেকে জানা যায়, সম্প্রতি ইউজিআইআইপি-৩ প্রকল্পের আওতায় ৩২ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে পঞ্চগড় পৌরসভা। এর মধ্যে রয়েছে রাস্তা নির্মাণ, সংস্করণ ও ড্রেন নির্মাণ। রাস্তার কাজ করা হচ্ছে ৩৬ কিলোমিটার। ড্রেনের কাজ হচ্ছে প্রায় ১৮ কিলোমিটার। এ ছাড়া জলবায়ু উন্নয়ন তহবিল থেকে বরাদ্দ এসেছে আরো দুই কোটি টাকা। এসব বরাদ্দে যে কাজ চলছে তাতেও অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে।

পৌরসভার উন্নয়নে ধীরগতির আরেক কারণ হিসেবে অনেকেই পৌর মেয়রকে দায়ী করছে। বিএনপি সমর্থিত তৌহিদুল ইসলাম এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো পৌর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু গত দুই যুগেও তিনি পৌরবাসীকে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারেননি।

পৌরসভার উত্তর জালাসী এলাকার রবিউল ইসলাম বলেন, ‘এটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা কেবল নামে। আমরা তৃতীয় শ্রেণির পৌরসভার মতোও সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি না। আমার বাড়ির পাশের কাঁচা রাস্তা পাকা করার জন্য এক বছর ধরে এটি খুঁড়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু বাকি কাজের কোনো খবর নেই। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা খুঁড়ে রাখার জন্য আমরা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছি।’ 

পৌরসভার বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে কোনো সুযোগ-সুবিধাই আমরা পাচ্ছি না। অথচ বছরের পর বছর পৌর কর দিয়ে যাচ্ছি। দীর্ঘ সময়কালে পৌর মেয়র কেবল তাঁর ভোট ব্যাংক গড়েছেন। কিন্তু উন্নয়ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।’

পঞ্চগড় পৌরসভার মেয়র তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে পৌর এলাকায় ড্রেন ও রাস্তাঘাট সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে। তবে ঠিকাদারদের নিয়ে আমি বিপদে পড়েছি। তারা ঠিকমতো কথা শোনে না। আমি বারবার তাগিদ দিলেও কাজ শেষ করছে না। এমনকি আমি তাদের কালো তালিকাভুক্ত করারও হুমকি দিয়েছি। তার পরও কাজ এগিয়ে নিচ্ছে না। ধুলাবালির জন্য আমরা পৌরসভা থেকে একটি পানিবাহী গাড়ির মাধ্যমে প্রধান প্রধান সড়কে পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করছি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি ট্রিটমেন্ট প্লান্ট করার প্রক্রিয়া চলছে। তবে এসব কাজে নাগরিকদেরও সহযোগিতা করতে হবে। আমরা যেসব ডাস্টবিন দিয়েছি, তাতে অনেকে ময়লা-আবর্জনা ফেলছে না। কেউ কেউ ময়লা ড্রেনে ফেলে দিচ্ছে। এতে পরিবেশ নোংরা হচ্ছে। প্রথম শ্রেণির নাগরিক হিসেবে তাদের আরো সচেতন হওয়ার প্রয়োজন বলে মনে করছি।’



মন্তব্য