kalerkantho


২১ প্রতিষ্ঠানকে দণ্ড

ভ্রাম্যমাণ আদালত

প্রিয় দেশ ডেস্ক   

২৫ মে, ২০১৮ ০০:০০



নোংরা পরিবেশে পণ্য উৎপাদন, দোকানে মূল্যের তালিকা না রাখা, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রিসহ নানা অভিযোগে ৬ জেলায় ২১টি প্রতিষ্ঠানকে দণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসব অভিযানে এক লাখ ৮৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ধ্বংস করা হয় ৫১ বস্তা পলিথিন ও সাড়ে তিন হাজার কেজি সেমাইসহ বিভিন্ন পণ্য। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের খবরে :

হবিগঞ্জ : শহরের বিভিন্ন বাজারে অভিযান চালিয়ে চার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে সাত হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার দুপুরে পরিচালিত এ অভিযানে পণ্যের গায়ে মূল্য লেখা না থাকায় ধুলাইখাল এলাকার নিউ শাপলা স্টোরকে তিন হাজার টাকা, অধিক মূল্যে গরুর মাংস বিক্রি করায় শায়েস্তানগর এলাকার সোহেল মাংসের দোকানকে এক হাজার টাকা, মূল্য বেশি রাখায় ফারুক স্টোরকে দুই হাজার টাকা এবং মূল্য তালিকা না রাখায় চৌধুরীবাজার এলাকার জগন্নাথ স্টোরকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম মাসুদ জানান, তাঁর নেতৃত্বে ৪০টিরও বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়।

ঝালকাঠি : ঝালকাঠিতে ৫১ বস্তা পলিথিন জব্দ করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার কীর্ত্তিপাশা মোড় থেকে পলিথিনগুলো জব্দ করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পলিথিন ব্যবসায়ী ওসমান খানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। নিষিদ্ধ পলিথিনগুলো স্থানীয় একটি বালুর মাঠে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. বশির গাজী।

এদিকে মেয়াদোত্তীর্ণ কোমল পানীয়, ফ্রুট জুস ও জেলি রাখার দায়ে ঝালকাঠি শহরের ওয়ার্সি বেকারি মালিককে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রমজানে বাজার স্থিতিশীল রাখতে বৃহস্পতিবার দুপুরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ জেলা কর্মকর্তা সাফিয়া আক্তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে গিয়ে এ জরিমানা করেন। পরে মেয়াদোত্তীর্ণ পানীয় বেকারির সামনেই ধ্বংস করা হয়। এ সময় ঝালকাঠি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবু হানিফ উপস্থিত ছিলেন।

মাদারীপুর : মাদারীপুরের কালকিনিতে একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে তিন হাজার ৬০০ কেজি সেমাই ধ্বংস ও ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, র‌্যাব-৮ মাদারীপুর ক্যাম্পের একটি বিশেষ দলের সহায়তায় জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহরিয়ার রহমান বুধবার সন্ধ্যায় কালকিনি উপজেলার ডাসায় অভিযান চালান। এ সময় বালীগ্রামের আব্দুর রহিমের কারখানায় নোংরা পরিবেশে সেমাই তৈরি করায় তাকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া তিন হাজার ৬০০ কেজি সেমাই ধ্বংস করা হয়। র‌্যাব-৮ মাদারীপুর ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) মোহাম্মাদ তাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ভোলা : ভোলায় তিন হোটেল মালিককে জরিমানা ও দুই কলা ব্যবসায়ীকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ সময় দুই কলা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সিলগালা করে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাজার পরিদর্শনে গিয়ে জেলা প্রশাসক মাসুদ আলম ছিদ্দিক এ দণ্ড দেন। তিনি জানান, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে রান্না ও বাসি খাবার বিক্রির অপরাধে হোটেল মদিনাকে ১০ হাজার টাকা, গুলবাগ হোটেলকে পাঁচ হাজার ও মাতৃস্নেহ হোটেলকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বৈদ্যুতিক হিট দিয়ে কলা পাকানোর দায়ে কলা স্টোর ও মদিনা ট্রেডার্স (ফলের আড়ত) সিলগালা করে মালিক সেন্টু মিয়া ও সুধীর চন্দ্র ঘোষকে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যজিস্ট্রেট আবদুল হালিম, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরে আলম ছিদ্দিকী, আবু বকর ছিদ্দিক ও প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি এম হাবিবুর রহমান।

ফরিদপুর : বোয়ালমারী উপজেলা সদর বাজারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ও ভেজাল খাবার তৈরির দায়ে তিনটি হোটেলের মালিককে ১৭ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এ জরিমানা করেন।

রাজবাড়ী : রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর বাজারে বুধবার বিকালে ছয় ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছেন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিউদ্দিনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে মুদি ব্যবসায়ী আনোয়ারকে এক হাজার ৫০০, মুদি ব্যবসায়ী আসলামকে পাঁচ হাজার, চাল ব্যবসায়ী রমজান ফকিরকে পাঁচ হাজার ও কানাই লাল শিকদারকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই বাজরে মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী বিক্রি এবং চালে প্লাস্টিকের বস্তা ব্যবহার করায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রফিকুল ইসলাম ব্যবসায়ী ইছারুল ইসলাম ও নজরুল শেখকে দুই হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। অভিযান চলাকালে ফরিদপুর পাট অধিদপ্তরের মুখ্য পরিদর্শক মো. জিয়ারত আলী আকন্দ ও রাজবাড়ীর পাট পরিদর্শক উপস্থিত ছিলেন।



মন্তব্য