kalerkantho


হাসপাতালে অক্সিজেন প্লান্ট আতঙ্ক

জামালপুর

জামালপুর প্রতিনিধি   

২৪ মে, ২০১৮ ০০:০০



হাসপাতালে অক্সিজেন প্লান্ট আতঙ্ক

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের অক্সিজেন গ্যাস প্লান্টে মজুদ সিলিন্ডার। ছবি : কালের কণ্ঠ

২৫০ শয্যার জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের অক্সিজেন প্লান্টটি মূল ভবনের নিচতলায় স্থাপন করা হয়েছে। এতে মাঝেমধ্যেই ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। তাই প্লান্টটিকে ঘিরে বাড়ছে আতঙ্ক। গত শনিবার রাতে এ প্লান্টের গ্যাস পাইপলাইনে লিকেজ দেখা দিলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগসহ ১১টি ওয়ার্ডের অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় বিকল্প হিসেবে প্রতিটি ওয়ার্ডে ছোট ছোট সিলিন্ডার দিয়ে রোগীদের অক্সিজেনের চাহিদা মেটানো হয়। হাসপাতালসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এখন এ প্লান্টটিকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। তাঁরা বলছেন, মূল ভবনে এ অক্সিজেন প্লান্টটি বসানো মোটেও ঠিক হয়নি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার রাত ৮টায় অক্সিজেন প্লান্টের পাইপলাইনে লিকেজসহ মারাত্মক ত্রুটি দেখা দেয়। এতে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারসহ ১১টি ওয়ার্ডে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ওই রাতে রোগীদের অক্সিজেন দেওয়া যায়নি। রোগীদের অনেককে হাসপাতালের বাইরে বিভিন্ন ক্লিনিকে নিয়ে অক্সিজেন দেওয়া হয়। রাতেই স্বাস্থ্য বিভাগের জামালপুরের ইলেকট্রো মেডিক্যাল ওয়ার্কশপের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অনুসন্ধান চালিয়ে অক্সিজেন প্লান্টের গ্যাস সরবরাহের মিটারের ঠিক ওপরের অংশে পাইপে লিকেজ চিহ্নিত করতে সক্ষম হন। পরদিন রবিবার সকালে ছোট ছোট সিলিন্ডারের মাধ্যমে প্রতি ওয়ার্ডে রোগীদের অক্সিজেনের চাহিদা মেটানো হয়। একই সঙ্গে গত রবিবার সকালে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ফোনে ও চিঠির মাধ্যমে ঢাকায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগকে বিষয়টি অবহিত করেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশে দুজন প্রকৌশলী গ্যাস পাইপলাইনে দুর্ঘটনার তিন দিনের মাথায় গত সোমবার হাসপাতালে আসেন। তাঁরা সমস্যা চিহ্নিত করে পাইপলাইনের ত্রুটি সারান। এরপর বিকেল ৩টার দিকে প্লান্ট থেকে ওয়ার্ডে অক্সিজেন গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১১-১২ অর্থবছরে হাসপাতালের অক্সিজেন গ্যাস প্লান্টটি মূল ভবনের জরুরি বিভাগের পাশের কক্ষে স্থাপন করা হয়। এই গ্যাস প্লান্ট ও জরুরি বিভাগের মধ্যে রয়েছে মূল ভবনের ১১টি ওয়ার্ডে রোগী আনা-নেওয়া ও যাতায়াতের পথ। এই প্লান্টের ওপরে দ্বিতীয় তলায় রয়েছে অপারেশন থিয়েটার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে থাকেন এই অক্সিজেন প্লান্ট নিয়ে। শুরুতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছ থেকে এই গ্যাস প্লান্ট বসানোর কাজটি পায় ঢাকার স্পেকট্রা অক্সিজেন লিমিটেড। এই প্লান্টে ৫৫-৬০ কেজি ওজনের সিলিন্ডারের মাধ্যমে বিশেষ ব্যবস্থায় পাইপলাইনের মাধ্যমে জরুরি বিভাগ, বিভিন্ন ওয়ার্ড ও অপারেশন থিয়েটারে অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়।

এই প্লান্ট সার্বক্ষণিকভাবে চালু রাখতে হয়। প্লান্টের ভেতরে সব সময় ৫৫-৬০ কেজি ওজনের ১০০টি গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ থাকে। স্পেকট্রা অক্সিজেন লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়ে গেলে বর্তমানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ন্যাশনাল ইলেক্ট্রো মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কশপ এই গ্যাস প্লান্ট দেখাশোনা ও সিলিন্ডার গ্যাস সরবরাহ করে থাকে। স্পেকট্রা অক্সিজেন লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ার পর এ প্লান্টের রক্ষণাবেক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ সঠিকভাবে না করায় এটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গ্যাস পাইপলাইনে লিকেজ হওয়াসহ মাঝেমধ্যেই প্লান্টে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জরুরি বিভাগের স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, অক্সিজেন প্লান্টটা এখানে বসানো মোটেও উচিত হয়নি। ৫৫-৬০ কেজি ওজনের একটি গ্যাস সিলিন্ডার যদি কোনো কারণে বিস্ফোরণ হয় তাহলে এর আশপাশে কেউ বাঁচবে না। ভবন ভেঙে পড়ে অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে। তাঁদের ভাষ্য মতে, অক্সিজেন প্লান্টটি জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালের মূল ভবন থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিতে হবে।

একটি গ্যাস সিলিন্ডারের মুখ খুলে পড়ে গেলে প্রবল বেগে গ্যাস বের হবে আর সিলিন্ডারটি ঘুরতে থাকবে। একটির ধাক্কায় অন্যটিরও মুখ খুলে যেতে পারে। ফলে বদ্ধ এই প্লান্ট কক্ষের মধ্যে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. শফিকুজ্জামান বলেন, ‘সরকারি আইন অনুযায়ী হাসপাতালের মূল ভবনে এ ধরনের গ্যাস প্লান্ট স্থাপনের নিয়ম নেই। হাসপাতাল প্রশাসনে যাঁরা দায়িত্বে ছিলেন তখনই তাঁদের এটা বোঝা উচিত ছিল। গ্যাস প্লান্টটি নিয়ে সব সময় একধরনের আতঙ্কেই থাকতে হয়।’

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম এই অক্সিজেন গ্যাস প্লান্ট প্রসঙ্গে বলেন, ‘হাসপাতালের মূল ভবনের নিচতলায় জরুরি বিভাগের সঙ্গে এই অক্সিজেন প্লান্ট বসানো মোটেও ঠিক হয়নি। প্লান্টটি যখন হয় তখন সিভিল সার্জনের আওতায় ছিল হাসপাতালটি। পরবর্তী সময়ে আমরা যে সেটআপ পেয়েছি সেভাবেই চলছে। গত শনিবার রাতে গ্যাস পাইপলাইনে লিকেজ দেখা দিয়েছিল। ঢাকা থেকে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা এসে ঠিক করে দিয়ে গেছেন।’


মন্তব্য