kalerkantho


ভারতের চিকিৎসক পেয়ে খুশি রোগীরা

নারায়ণগঞ্জে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



ভারতের চিকিৎসক পেয়ে খুশি রোগীরা

রোগী দেখছেন ভারত থেকে আগত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। ছবি : কালের কণ্ঠ

নারায়ণগঞ্জে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দিতে এসেছেন কলকাতার স্বনামধন্য কুঠারী হাসপাতালের গ্যাস্ট্রো এন্টালোজিস্ট ও অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তাঁরা মানবকল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করতে পেরে খুবই আনন্দিত। আর চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরাও বেশ খুশি। তারা এ ধরনের আয়োজন বারবার করার অনুরোধ জানায়। তারা বলে, এতে গরিব-অসহায় মানুষ উপকৃত হবে।

গত বুধবার সকালে সেন্ট্রাল ঘাটসংলগ্ন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা শুরু হয়ে চলে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত। দুই দিনে ৩০০ রোগী দেখা হয় বলে জানায় আয়োজকরা। সেলিম ওসমান সাপোর্টার্স ফোরামের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।

সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান বলেন, ‘অনেক অসহায় রোগী রয়েছেন, যাঁরা টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারেন না। তাঁদের চিকিৎসা দিতেই আমাদের এ আয়োজন। পরে ডাক্তারদের নিয়ে একটি মোবাইল টিম বানানো হবে। তাঁরা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে প্রকৃত রোগীদের চিকিৎসা দেবেন। এটা আমাদের প্রথম প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া নিয়মিত চালু থাকবে।’

মেডিক্যাল ক্যাম্পে আসা বন্দরের মাহমুদা সিদ্দিকী বলেন, ‘আমার হাতের তালু মুঠ করতে পারি না। শুনেছি এখানে ভারতীয় বড় চিকিৎসক এসেছেন। তাঁরা ফ্রি চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। তাই এসেছি। এ রকম আয়োজন বারবার করা উচিত। আয়োজনকারীদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

গোদনাইল এলাকার রানী বেগম (৫৮) বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে হাঁটুর জয়েন্ট ও কোমরের ব্যথায় ভুগছি। এখানে ডাক্তার কিছু পরীক্ষা ও ওষুধ দিয়েছেন। এই ফ্রি চিকিৎসাসেবা পেয়ে আমরা খুবই খুশি। এমপি সেলিম ওসমানকে ধন্যবাদ।’

সুদূর রাজধানীর মিরপুর থেকে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন নাহিদা বেগম। তাঁর ব্রংকাইটিস হয়েছে বলে জানা গেছে।

বৃদ্ধা মোমেনা বেগম বলেন, ‘অনেক দিন ধরে পেটের ভেতরে কী যেন একটা হয়েছে। খুব ব্যথা করে, কিন্তু টাকার অভাবে চিকিৎসা নিতে পারছি না। আজকে ফ্রি সেবার কথা জানতে পেরে এখানে ছুটে এসেছি। যাঁরা এই ব্যবস্থা করেছেন তাঁদের জন্য দোয়া করি।’

চিকিৎসাসেবা দিতে আসা ডা. জয়দেব সরকার বলেন, ‘ফ্রি চিকিৎসাসেবা দিতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। এর আগে আমি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বহু ফ্রি চিকিৎসাসেবা দিয়েছি। টাকা খরচ করে সেবা নেওয়ার মতো অনেকেরই সামর্থ্য থাকে না।

একটা শ্রেণির লোকদের পকেটে পয়সা না থাকায় তারা বছরের পর বছর রোগ বহন করে জীবন যাপন করে থাকে। এসব ফ্রি সেবার মতো কার্যক্রম কোথাও চালু হলে তারা সেবা নিতে আসে।

তাই এসব ফ্রি চিকিৎসাসেবার আয়োজন নিয়মিত অথবা মাঝে মাঝে করতে হবে। এই প্রথম বাংলাদেশে এসেছি ফ্রি চিকিৎসাসেবা দিতে। এসব আয়োজন বারবার হলে আমরা আবার আসব।’

ডা. বিপ্লব দেলুই বলেন, ‘ফ্রি চিকিৎসাসেবা দিতে পারার মাঝে একটা আত্মতৃপ্তি আছে। বাংলাদেশে এটা আমার প্রথম হলেও পশ্চিমবঙ্গে বহুবার ফ্রি চিকিৎসাসেবা দিয়েছি। আমি আমার ক্লিনিকে প্রত্যেক সপ্তাহে এক দিন করে ফ্রি চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকি। এই সেবা দেওয়ার মাধ্যমে মানুষের অনেক কাছে যাওয়া যায়। আর পেশাদারত্ব ছেড়ে মানবসেবায় নিজেদের নিয়োজিত করা যায়।’


মন্তব্য