kalerkantho


রানা প্লাজা ধসের পাঁচ বছর

হারানো স্বজনদের স্মরণে স্মৃতি কাঁথা প্রদর্শনী

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

২১ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



সাভারের রানা প্লাজা ধসের পাঁচ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে ছবি, কাঁথা ও কথা নিয়ে ‘স্মৃতি কাঁথা ও কথা’ নামের একটি ব্যতিক্রম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪টায় গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির পক্ষ থেকে ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনে ‘মৃতদের স্মরণ করো জীবিতদের জন্য লড়াই করো’ স্লোগান নিয়ে প্রদর্শনীটি শুরু হয়। গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান বিশিষ্ট আলোকচিত্রী তাসলিমা আখতার এবং আমেরিকান অ্যাক্টিভিস্ট, ইতিহাসবিদ ও প্রবীণ কাঁথাশিল্পী রবিন বারসন যৌথভাবে প্রদর্শনীটির পরিকল্পনা করেছেন। এর উদ্বোধন করেন নিখোঁজ সমাপ্তি রানীর মা ও আহত শ্রমিক রুনা রানী দাস।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার, নিহত শ্রমিক রাব্বীর মা রাহেলা খাতুন, নিখোঁজ শান্তার বোন সেলিনা আক্তার, নিখোঁজ বিউটির স্বামী আলম মাতবর, আহত শ্রমিক রূপালী, গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুর ইসলাম শামা ও গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির দপ্তর সম্পাদক মুসা কলিমুল্লাহ। অন্যদিকে লিখিত শুভেচ্ছাবার্তা পাঠান আমেরিকান শিল্পী রবিন বারসন।

বক্তারা বলেন, নিহতদের নিয়ে ব্যতিক্রম এ প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য হলো হাজারো প্রাণ ও স্বপ্ন হত্যা হওয়া রানা প্লাজা ধসের দিনটিকে যেন আমরা ভুলে না যাই। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসে এক হাজার ১৭৫ জনেরও বেশি শ্রমিক প্রাণ হারান। সারা দুনিয়ার কারখানার ইতিহাসে এ ঘটনা বিরল হলেও এখন পর্যন্ত ভবন মালিক সোহেল রানাসহ দোষীদের শাস্তি হয়নি। তাই এ স্মৃতি কাঁথা প্রদর্শনীর মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বক্তারা উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে বলেন, বর্তমান বাজারদরে পোশাক শ্রমিকের জীবন বেহাল। পাঁচ হাজার ৩০০ টাকার বেতনে শ্রমিকদের বেঁচে থাকা দায়। তাই মাসিক মজুরি ১৬ হাজার টাকা করে শ্রমিকদের স্বাভাবিক জীবনমান নিশ্চিত করতে হবে। এ দাবির সঙ্গে একাত্ম হয়েই আসন্ন ২৪ এপ্রিলকে সামনে রেখে গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি আওয়াজ তুলেছে ‘মৃতদের স্মরণ করো জীবিতদের জন্য লড়াই করো’।

গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার বলেন, ‘দেশের নানা অঞ্চলের নকশি কাঁথার ওপর হারানো স্বজনদের ছবি বসিয়ে শ্রমিক পরিবারের সদস্যরা স্মৃতি কাঁথা তৈরি করেছেন। ১৫টি নিহত ও নিখোঁজ পরিবারের নারী সদস্যরা এ কাজে অংশ নিয়েছেন। তাঁরা হলেন নিহত শান্তার বড় বোন সেলিনা আক্তার, নিহত ফজলে রাব্বীর মা রাহেলা খাতুন, নিখোঁজ সমাপ্তি রানী দাস ও নির্মলা রানী দাসের আত্মীয় আহত শ্রমিক সুমিত্রা রানী, নিখোঁজ বিউটি বেগমের মেয়ে ফারজানা, নিহত শিরীন বেগমের মেয়ে মুক্তা, নিহত ইস্রাফিলের স্ত্রী চায়না বেগম, নিহত সনজিৎ দাসের মা শূন্যবালা দাস, নিহত পলি আক্তারের মা শাহানা, নিহত খালেদার মা আয়েশা, নিহত শহীদুলের স্ত্রী খাদিজা, নিহত আঁখি আক্তারের মা নাছিমা প্রমুখ।

রবিন বারসন নিউ ইয়র্কের ট্রায়াঙ্গাল সোয়েটার কারখানায় দুর্ঘটনার ১০০ বছর পূর্তিতে নিহতদের ছবি সংগ্রহ করে তা দিয়ে কাঁথা তৈরি করে ২০১১ সালে একটি প্রদর্শনী করেন। পরবর্তী সময়ে রানা প্লাজা ও তাজরীনের নিহতদের নিয়ে স্মৃতি কাঁথা তৈরি করেন ২০১৪ সালে। অন্যদিকে সংগঠক ও আলোকচিত্রী তাসলিমা আখতার দীর্ঘ ১০ বছর ধরে শ্রমিক আন্দোলনের সংগঠক হিসেবে গার্মেন্ট শ্রমিকদের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। আর ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে শ্রমিকদের জীবনসংগ্রাম নিয়ে ছবি তুলছেন।

 



মন্তব্য