kalerkantho


লাখাইয়ে খুনিরা অধরা

বাবার হত্যাকাণ্ডের বিচার চান ছেলে

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



হবিগঞ্জের লাখাই একটি দাঙ্গাপ্রবণ এলাকা। এখানে প্রায়ই হত্যার ঘটনা ঘটে। তবে কোনো হত্যা মামলার বিচার হয় না। একটি প্রভাবশালী মহলের চাপে ভুক্তভোগীদের আপস-মীমাংসা করতে বাধ্য করা হয়। উপজেলার মুড়িয়াউক গ্রামের মামুন মোল্লা গত সোমবার বিকেলে হবিগঞ্জ প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মামুন মোল্লা বলেন, ইউপি নির্বাচনের বিরোধকে কেন্দ্র করে তাঁর বাবা কুদ্দছ মোল্লাকে হত্যা করে স্থানীয় প্রভাবশালী মাসুক মিয়া ও তার লোকজন। এ ঘটনার ৪০ দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে তাঁর আত্মীয়-স্বজনদের ন্যক্কারজনকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে একটি প্রভাবশালী মহল হত্যা মামলা তুলে নিয়ে আপস-মীমাংসার জন্য চাপ দিচ্ছে। তিনি আরো বলেন, প্রভাবশালীদের চাপে আপসের মাধ্যমে সাময়িকভাবে বিরোধ নিষ্পত্তি হলেও মনের মধ্যে ক্ষোভ ও যন্ত্রণা থেকে যায়। পরবর্তী সময়ে পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে এ ধরনের আরো ঘটনার জন্ম হয়। লাখাই এলাকায় এমন ঘটনার নজির অনেক আছে।

মামুন মোল্লা দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, ‘বাবা খুন হওয়ার পর আমার আত্মীয়-স্বজনদের বলেছি, আসামিদের বাড়িতে কোনো লুটপাট হবে না। আমরা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছি। কিন্তু বাবার লাশ বাড়িতে থাকা অবস্থায় মাসুক মিয়া লোকজন দিয়ে রাতের অন্ধকারে নিজেদের বাড়িঘর ভেঙে সাক্ষীদের নামে মামলা করে। মামলার ভয়ে সাক্ষীরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এ সুযোগে প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের বাড়িতে হামলা করে ছয়জন নারীকে আহত করেছে।’

মামুন মোল্লা আরো বলেন, ‘বাবার খুনিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে। বলে বেড়াচ্ছে, তাদের গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা নেই পুলিশের। তারা এও বলছে, আমি নাকি তাদের সঙ্গে আপস করতে বাধ্য হব।’

এ সময় বাবার হত্যার ন্যায়বিচার চেয়ে সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে নিহত কুদ্দুছ মোল্লার স্ত্রী রহিমা বেগম, আরেক ছেলে জাকারিয়া মোল্লাসহ অনেকেই উপস্থিত ছিল।

 



মন্তব্য