kalerkantho


জলবায়ুর প্রভাব ও দীর্ঘস্থায়ী বন্যা

বাইক্কাবিলের অশনিসংকেত

আবদুল হামিদ মাহবুব, মৌলভীবাজার   

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



দীর্ঘস্থায়ী বন্যার কারণে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার বাইক্কাবিলের জলজ উদ্ভিদ পচে নষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণে শীতে গত বছরের তুলনায় এবার অর্ধেক পাখি এসেছিল। শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই এখন বিলের স্থানে স্থানে শুকিয়ে মাটি বেরিয়ে গেছে। যা এই বিলের জীববৈচিত্র্যের জন্য এক অশনিসংকেত।

মৌলভীবাজার জেলা শহর থেকে বাইক্কাবিলের দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার, আর শ্রীমঙ্গল সদর থেকে ২২ কিলোমিটার। বিলটি পড়েছে শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নে। বিলেজুড়ে সব সময়ই পানি থাকত। চাপরা, মাগুড়িয়া ও যাদুরিয়া এই তিনটি ছোট বিলের সমন্বয়ে বাইক্কাবিল। বিলের আয়তন প্রায় ১০০ হেক্টর। এবার বিলে পানি এত কমে গেছে যে বিলের স্থানে স্থানে তলার কাদামাটি ভেসে উঠেছে। বিলের মাছে খাওয়ার শেওলা অনেক কমে গেছে। পানিতে থাকা শাপলা, শালুক, পদ্ম পচে গেছে। গত বর্ষায় অত্যধিক পানি থাকায় বড় বড় ঢেউ এগুলোর ওপর আছড়ে পড়ে এই অবস্থা হয়েছে। বিলের পানি ভাটির দিকে প্রবাহিত হওয়ার সময় কচুরিপানার স্তূপ বিল থেকে বের হয়ে গেছে। এবার বিলে কচুরিপানা কম থাকায় পানির ওপর পাখি বিচরণের স্থান কমে গেছে। প্রতিদিন বাইক্কাবিল দেখতে শত শত পর্যটক এলে গত শুক্রবার সরেজমিনে গাজীপুর থেকে আসা মাত্র চারজন পর্যটকের দেখা মেলে।

স্থানীয় লোকজন ও বিলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, এবারের দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় হাইল হাওরে দীর্ঘদিনে গড়ে উঠা জীববৈচিত্রের আধার পুরোটা ধ্বংস হয়ে গেছে। পর্যটকদের পরম আকর্ষণীয় নানা জলজ উদ্ভিদ, লতাগুল্ম, এমনকি চোখে পড়ার মতো হাজারো পদ্ম ফুল এখন আর বিলে চোখে পড়ে না। জলবায়ুর প্রভাবে বাইক্কাবিলের পানি অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। বিলের ভেতরে কোনো কোনো স্থানে পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। ফলে বিলজুড়ে হাজারো জলজ উদ্ভিদ, লতাগুল্ম মরে শুকিয়ে ধূসর বর্ণ ধারণ করছে। এতে হাইল হাওর অভয়াশ্রমে মাছ-পাখির চরম খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। এ বছর শীতপ্রধান অঞ্চল থেকে আসা অতিথি পাখির সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। পর্যটকদের সংখ্যাও কমে গেছে। আর যে কজন পর্যটক আসছেন তাঁরা হতাশা প্রকাশ করছেন।

বিল উন্নয়নে কাজ করা সমাজভিত্তিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. মিন্নত আলী জানান, এই সময়ে বিলের পানি কিছুটা কমে। প্রতিবার বিলের পানি ভাটি পথে হাইল হাওরে যাতে বের হয়ে যেতে না পারে, তার জন্য একটি বাঁধ দেওয়া হতো। কিন্তু এবার বাঁধ দিতে বিলম্ব হয়েছে বলেই পানি বেশ কমে গেছে। প্রায় ৩০০ ফুট দীর্ঘ বাঁধের কাজ দুদিন আগে শেষ হয়েছে। এখন বিলে আবার পানি বাড়বে। তিনি বলেন, ‘বাইক্কাবিলের এমন ক্ষতির জন্য দায়ী দীর্ঘস্থায়ী বন্যা।’

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তা মিহির কুমার দো বলেন, ‘বিলে অতিথি পাখি সংরক্ষণে আইনি কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত আছে।’

যুক্তরাজ্যের পাখি বিশেষজ্ঞ পল থমসনের দেওয়া তথ্য মতে, ২০১৭ সালে বাইক্কাবিলে ৪১ প্রজাতির ১০ হাজার ৭১৩টি পাখি এসেছিল। আর এ বছর (জানুয়ারিতে গণনা) ৩৮ প্রজাতির  পাঁচ হাজার ৪১৮টি পাখি এসেছে।

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. তোফায়েল ইসলাম বলেন, ‘বাইক্কাবিলের বর্তমান কী অবস্থা, সেটা আমার জানা নেই। আমি খোঁজ নেব। কোনো সমস্যা হয়ে থাকলে সেটা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।’

 

 

 



মন্তব্য