kalerkantho


শ্রীনগর

ধর্ষণ মামলার বাদীকে হত্যার হুমকি

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি   

৯ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় একটি ধর্ষণ মামলা তুলে নিতে বাদীকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে আসামি। আসামি শহিদুল ইসলাম সবুজ প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সবুজ কাঁঠালবাড়ী গ্রামের আনোয়ার আলীর ছেলে। সে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে তার বাড়িতে এক গৃহবধূকে যৌন নির্যাতন করে। ওই নারী গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সবুজ ও তার সহযোগী আক্কাছকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন। আসামিরা বাদীকে হত্যার হুমকি দিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার চাপ দিচ্ছে। এতে গৃহবধূর পরিবার চরম আকঙ্কে দিন যাপন করছে। শুধু তা-ই নয়, সবুজ মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি গৃহবধূ, স্বামী ও পরিবারের অন্যদের বিরুদ্ধে শ্রীনগর থানায় একটি মামলা করেছে।

গৃহবধূ বলেন, ‘মোবাইল ফোনে ও বাড়িতে লোক পাঠিয়ে মামলা তুলে না নিলে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। আতঙ্কে দিন কাটাতে হচ্ছে। শ্রীনগর থানার ওসিকে জানালে তিনি কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।’

কে এই সবুজ?

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সবুজের বাবা আনোয়ার আলী একাধিক হত্যা মামলার আসামি। আনোয়ার ১৯৮০ সালে একটি দোনলা বন্দুকের লাইসেন্স নেয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, বাবার বন্দুক ব্যবহার করত ছেলে। এই অস্ত্র ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার নিরীহ লোকজনের জমিজমা, বাড়িঘর, এমনকি কাঁঠালবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সম্পত্তি দখল করেছে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০১৬ সালের ১৬ নভেম্বর বন্দুক দিয়ে স্থানীয় লোকজনকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করে। এতে এলাকার নিরীহ জনগণ ভয়ে ছোটাছুটি করে বেশ কয়েকজন আহত হয়। পড়ে স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে সবুজকে পিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এই সময় তার বাবার লাইসেন্স করা অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেয়। এই মামলায় পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। বর্তমানে অস্ত্র ও ২৮ রাউন্ড কার্তুজ আদালতে জমা রয়েছে। মামলায় সবুজ দীর্ঘদিন জেলহাজতে ছিল। জেলা বিশেষ শাখার পুলিশ সুপারের সুপারিশে ২০১৭ সালের ২১ মে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বন্দুকের লাইসেন্স বাতিল করেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বন্দুক পুলিশ নেওয়ার পরও সবুজকে প্রায় সময় পিস্তল নিয়ে এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তার বিরুদ্ধে স্ত্রীকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযুক্ত সবুজ আলীর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শ্রীনগর থানার ওসি এস এম আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আদালতে ধর্ষণ মামলা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে। বাদীকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি জানা নেই।’


মন্তব্য