kalerkantho


খুলনা

দখলদাররা গিলছে রেলের জমি

কৌশিক দে, খুলনা   

৫ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



দখলদাররা গিলছে রেলের জমি

খুলনায় এমন রেললাইন পরিত্যক্ত দেখিয়ে বরাদ্দ দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। ছবি : কালের কণ্ঠ

চলমান লাইনকে পরিত্যক্ত দেখিয়ে খুলনা রেলওয়ের জমি দখল করছে এলাকার প্রভাবশালীরা। রেলের নীতিমালা উপেক্ষা করে পাকা ও স্থায়ী স্থাপনা গড়ে তুলছে তারা। সম্প্রতি খুলনা রেলওয়ে হাসপাতালের এক একর জায়গার বেশির ভাগ বেদখল হয়ে গেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, গুটিকয়েক ব্যক্তির কাছে রেলের বেশির ভাগ জমি রয়েছে। কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের সহায়তায় প্রভাবশালীরা নিজ নামে এসব জমি নিয়ে অন্য ব্যবসায়ীদের কাছে হস্তান্তর করে কোটি কোটি টাকা লুফে নিচ্ছে।

খুলনা রেলের ভূ-সম্পত্তি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা রেলের মোট জমির পরিমাণ ১৯৫ দশমিক ৪৪ একর। এর মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে ১০ একর, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ৬ দশমিক ৪২ একর, খুলনা জেলা প্রশাসন ২ দশমিক ৮৭ একর, মৎস্য লাইনসের ১৩ দশমিক ৮৭ একরসহ মোট ৩৩ দশমিক ৫ একর জমি ব্যবহার করা হচ্ছে। বাকি ১৬২ দশমিক ৩৯ একর জমি রেলওয়ের অপারেশন এলাকা। ওই এলাকার প্রায় ৩৫ একর জমি অবৈধ দখলদারদের কবলে চলে গেছে। ২০১০ সালে অবৈধ দখলে থাকা রেলওয়ের সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় জোন একটি উচ্ছেদ কমিটি গঠন করে। ওই সময় মাঠপর্যায়ে জরিপ চালিয়ে ছয় শতাধিক ব্যক্তির দখলে থাকা ৩৫ একর জমি চিহ্নিত করে কমিটি। কিছুদিন কাজ করার পর থেমে যায় কমিটির উদ্ধার তৎপরতা। ওই সময় কিছু জমি দখলমুক্ত করা হলেও পরে আবার বেদখল হয়ে যায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রেলভূমিতে নতুন নতুন স্থাপনা গড়ে উঠছে। এর বেশির ভাগই স্থায়ী ও পাকা। খুলনার এক সময়ের লাল রঙের রেল হাসপাতালটি এখন খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর। একসময় এটিতে ম্যাটারনিটি ও সাধারণ দুটি বিভাগ থাকলেও এখন তা বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। এক একর জমির ওপর স্থাপিত হাসপাতালটি নামমাত্র জায়গায় রয়েছে।

অন্যদিকে চলমান রেললাইনকে ভূমি দেখিয়েও বাণিজ্যিক লাইসেন্স দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ২০১৩ সালের ১৭ মার্চ এ ধরনের লাইসেন্স পেয়েছেন মো. মহসীন খন্দকার নামের এক ব্যক্তি। তিনি জব্বার স্মরণি ও বড়বাজারসংলগ্ন মূল রেললাইনের ১৩৫ বর্গফুট জমি বরাদ্দ নিয়েছেন। যেখানে এখনো ঢাকাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন ট্রেন এসে অবস্থান করে। গত ডিসেম্বরে রাতের আঁধারে মহসীন খন্দকার ওই এলাকায় রেলভূমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছে বলে অভিযোগ আছে। বর্তমানে সেখানে ‘মের্সাস এন ইউ আহমেদ’ নামে সাইনবোর্ড লাগানো রয়েছে। স্থাপনার কারণে বাজারের ব্যবসায়ীরা ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও ভ্যানে মালামাল ওঠানামায় বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে।

অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে মো. মহসীন আলী খন্দকার বলেন, ‘রেলওয়ের কাছ থেকে লাইসেন্স নিয়ে ঘর নির্মাণ করেছি। আমার কাছে সব কাগজপত্র রয়েছে।’ নাম প্রকাশ না করে একাধিক ব্যক্তি বলেন, একসময়ে রেলভূমি দখল করেছিল কুখ্যাত অপরাধী এরশাদ শিকদার। সেগুলো উদ্ধার হলেও এখন গুটিকয়েক ব্যক্তি গোটা রেলভূমি গিলে খাচ্ছে। কাগজপত্রেও এসব ব্যক্তি বেশির ভাগ জমি বরাদ্দ নিয়ে মার্কেট ও স্থাপনা নির্মাণ করেছে।

খুলনা রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগের কর্মকর্তা মো. জিয়াউল হক বলেন, ‘চলমান রেললাইনকে ভূমি দেখিয়ে বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে অনেকেই মৌখিকভাবে বলেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ পাইনি। আর যে স্থানটিতে বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে, সেখানে নিয়মিত রেল থামছে ও মালপত্র ওঠানামা করছে। এমন ঘটনা ঘটলে অবশ্যই এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধভাবে রেলের জমি দখলদারদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’



মন্তব্য