kalerkantho


৫০০ টাকা দিতে না পারায় ফরম পূরণ হয়নি

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

৫ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



শাহীন আলম দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। দরিদ্র ঘরে জন্ম তার। পরিবারে চরম অভাব আর শত প্রতিকূলতার মধ্যেও হার মানেনি। স্কুল-কলেজ যে সময় বন্ধ থাকে, সেই সময় রাজমিস্ত্রির কাজ করে। অভাবী মা-বাবার দিকে তাকিয়ে না থেকে নিজের আয়ে লেখাপড়ার খরচ জোগায় সে।

এইচএসসির ফরম পূরণে কলেজের চাহিদার চেয়ে ৫০০ টাকা কম দেওয়ায় তার ফরম পূরণ করেননি অধ্যক্ষ। বোর্ডের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফরম পূরণ না হওয়ায় তার শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। কুড়িগ্রামের রৌমারী ডিগ্রি কলেজের ঘটনা এটি।

শাহীন রৌমারী উপজেলার বাউসমারী গ্রামের দিনমজুর আব্দুল মান্নানের ছেলে। তারা তিন ভাই। বড় ভাই আমিনুল ইসলাম পোশাক কারখানার শ্রমিক। ছোট ভাই সাজু মিয়া রৌমারী ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। শাহীন ও সাজু দুই ভাই রাজমিস্ত্রির কাজ করে লেখাপড়াসহ সংসারের খরচ চালায়। তাদের বাবা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। ফলে মা-বাবার ভরণ-পোষণ তাদের দুই ভাইকে করতে হয়।

শাহীন জানায়, কম টাকায় ফরম পূরণের জন্য সে অধ্যক্ষের কাছে গেছে। অধ্যক্ষ তাকে ধমক দিয়ে বলেন, ‘এক টাকা কমেও ফরম পূরণ হবে না। টাকা দিতে না পারলে লেখাপড়া করার দরকার নেই। কামলা দিয়া খাও গা।’ পরে সুদের ওপর দুই হাজার টাকা নেয় সে। কলেজের অফিস সহকারীর কাছে ফরম পূরণের জন্য এ টাকা জমা দিয়ে রশিদ সংগ্রহ করে। সে জানে, তার ফরম পূরণ হয়েছে। কিন্তু এখন শুনছে ফরম পূরণ হয়নি। ৫০০ টাকা কম দেওয়ার কারণে অধ্যক্ষ তার নাম শিক্ষা বোর্ডে পাঠাননি।

শাহীন বলে, ‘আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন ডান চোখে পাটকাঠির আঘাত লাগে। তখন চোখ নষ্ট হয়ে যায়। অর্থের অভাবে মা-বাবা চোখের উন্নত চিকিৎসা করাননি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চোখে অপারেশন করলে ভালো হয়ে যাবে। তবে এ জন্য পাঁচ লাখ টাকার বেশি খরচ হবে। এত টাকা আমরা জোগাড় করতে পারব না। তাই চোখের আশা ছেড়ে দিয়েছি। নষ্ট হওয়া চোখে আমি কিছুই দেখতে পারি না।’


মন্তব্য