kalerkantho


চুনারুঘাটে ব্যবসায়ী নেতা খুন, গফরগাঁওয়ে শাশুড়ি

ধুনটে নির্মাণ শ্রমিকের লাশ

প্রিয় দেশ ডেস্ক   

২ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে ব্যবসায়ী নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ছেলের বউয়ের কোপে খুন হয়েছেন শাশুড়ি। বগুড়ার ধুনটে মিলেছে নির্মাণ শ্রমিকের লাশ। নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) : পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে ছেলের বউয়ের কোপে বৃদ্ধা রমিজা খাতুন খুন হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার রাতে গফরগাঁও উপজেলার চারিপাড়া গ্রামে। রমিজা একই গ্রামের শামছুল হক আকন্দের স্ত্রী ছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। ছেলের বউ খাদিজা খাতুনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একমাত্র ছেলে ইসলাম আকন্দ, ছেলের বউ খাদিজা প্রায়ই রমিজাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করত। একাধিকবার তাঁকে হত্যার চেষ্টাও হয়েছিল। এসব কারণে রমিজা আলাদাভাবে রান্না করে খেতেন। থাকতেনও আলাদা। ঘটনার রাতে তিনি খেতে বসেছিলেন। হঠাৎ ছেলের বউ খাদিজা ধারালো দা দিয়ে তাঁর বুকে, পেটে ও গলায় উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে তাঁর মৃত্যু হয়। রমিজার ছোট ভাই আবুল হোসেন অভিযোগ করেন, ‘আমার বোন খুব কষ্টে ছিল। ছেলে, ছেলের বউ আর নাতি-নাতনিরা কথায় কথায় তাঁকে অত্যাচার-নির্যাতন করত। কয়েক মাস আগেও ছেলে তাঁকে দা দিয়ে কোপ দিয়েছিল; কিন্তু কোপটি গাছে লাগায় আমার বোন প্রাণে রক্ষা পায়। আমি বোন হত্যার বিচার চাই।’ ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী গফরগাঁও থানার ওসি আব্দুল আহাদ খান বলেন, খাদিজাকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। মামলার ভিত্তিতে খাদিজাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে ময়মনসিংহ জেলহাজতে পাঠানো হবে।

হবিগঞ্জ : চুনারুঘাট উপজেলায় গতকাল বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ী নেতা আবুল হোসেন ওরফে আকল মিয়াকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তিনি উপজেলা বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির (ব্যকস) সভাপতি ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের উপজেলা সভাপতি ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল পৌর শহরের বাল্লা রেলগেট এলাকার বাসা থেকে বেরিয়ে মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করেন আকল মিয়া। ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় স্থানীয়রা উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চুনারুঘাট থানার ওসি কে এম আজমিরুজ্জামান জানান, আকল মিয়ার মাথাসহ বিভিন্ন জায়গায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের একাধিক চিহ্ন আছে। খুনিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

বগুড়া : ধুনট উপজেলায় ধানক্ষেতে মিলেছে নির্মাণ শ্রমিক আবুল কালাম ওরফে হেমায়েত আলীর লাশ। খবর পেয়ে পুলিশ গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে চাপড়া বিলের ক্ষেত থেকে লাশটি উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে অপমৃত্যু মামলা নিয়েছে পুলিশ। আবুল কালাম পটুয়াখালী সদরের ভরিয়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ঝিনাই গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে লাভলি খাতুন ঢাকায় পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। সেখানে নির্মাণ শ্রমিক আবুল কালামের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। এর সূত্র ধরে ১৪ বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়। এ দম্পতির দুই মেয়ে আছে। বিয়ের পর থেকেই আবুল কালাম শ্বশুরবাড়িতে থাকছিলেন। জীবিকার তাগিদে চার বছর আগে তাঁর স্ত্রী ওমান চলে যান। শ্বশুর তোফাজ্জল বলেন, ‘বুধবার সন্ধ্যায় প্রতিবেশীদের বাড়িতে বেড়ানোর কথা বলে বের হয় কালাম। কিন্তু রাতে আর বাড়ি ফেরেনি। সকালে গ্রামের লোকজনের কাছে জানতে পারি, জামাতার লাশ পাশের বিলের ভেতর পড়ে আছে।’ এ ব্যাপারে ধুনট থানার ওসি খান মোহাম্মাদ এরফান বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বলা যাচ্ছে না। তবে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।


মন্তব্য