kalerkantho


অবশেষে ধর্মঘট প্রত্যাহার

ঢাকার সঙ্গে উত্তরের বাস চলাচল বন্ধে জনদুর্ভোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও বগুড়া   

১ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



ঢাকার সঙ্গে উত্তরের বাস চলাচল বন্ধে জনদুর্ভোগ

বাস মালিকদের বিরোধের জেরে গতকাল ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের বাস চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়ে যাত্রীরা। ছবিটি বগুড়ার বনানী মোড় থেকে তোলা।

বগুড়া হয়ে রাজধানী ঢাকা ও উত্তরাঞ্চলের ১১ জেলার মধ্যে চলাচলকারী বেশির ভাগ যাত্রীবাহী সড়ক পরিবহন গতকাল বুধবারও বন্ধ থাকায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হয়েছে যাত্রীরা। সড়ক পরিবহন মালিকদের দ্বন্দ্বের জেরে সৃষ্ট অচলাবস্থায় জরুরি প্রয়োজনের যাত্রীরা ভিড় জমায় রেলস্টেশনে। বাড়তি চাপের কারণে টিকিট সংকটে শত শত যাত্রীকে ট্রেন যাত্রাও বাতিল করতে হয়েছে।

গতকাল সকাল ৬টা থেকে উত্তরাঞ্চলের ১১ জেলা বগুড়া, নওগাঁ, জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের সঙ্গে বাস চলাচল বন্ধ থাকে। রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালে গিয়ে যাত্রীরা উত্তরের ১১ জেলায় যাওয়ার নির্দিষ্ট বাস পায়নি। ১১ জেলা থেকেও ঢাকার বাস না পেয়ে হয়রানির মুখে পড়ে যাত্রীরা।

বিচ্ছিন্নভাবে কিছু বাস চলাচল করলেও তা পরিবহন শ্রমিকদের বাধার মুখে পড়ে। অনেকে আবার ব্যক্তিগত গাড়িতে গন্তব্যে রওনা দিলেও পথে পথে বাধা দেওয়া হয়। তবে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেওয়ায় গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

জানা গেছে, ঢাকায় শাহ্ ফতেহ আলী পরিবহনের কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়ায় ঢাকার সঙ্গে সরাসরি বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন। বগুড়ার ওপর দিয়ে বাস চলাচল বন্ধের এ কর্মসূচি শুরু করে রাজশাহী বিভাগীয় পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। গত মঙ্গলবার রাতে রাজশাহী বিভাগীয় মোটর শ্রমিক আঞ্চলিক কার্যালয়ে জরুরি বৈঠক করে তারা গতকাল থেকে অনির্দিষ্টকাল ধর্মঘট আহ্বান করে। এর আগে মঙ্গলবারও বগুড়ার ওপর দিয়ে বাস চলতে দেওয়া হয়নি।

বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুল ইসলামের কাছে বাস চলাচল বন্ধ রাখা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঢাকার পরিবহন নেতারা অসহযোগিতা করছেন বলেই জটিলতা তৈরি হয়েছে। আমরা যাত্রীদের জিম্মি করতে চাই না।’ তবে ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সভাপতি আবুল কালাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বগুড়ার বাস মালিকরাই একগুঁয়ে কর্মসূচি দিয়েছেন। তবে তা সফল হয়নি। রাত থেকেই পরিস্থিতি পুরো স্বাভাবিক।’ বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল লতিফ মণ্ডল বলেন, ঢাকায় শাহ্ ফতেহ আলী পরিবহনের কাউন্টার খুলে দিয়ে সমস্যার সমাধান না করা পর্যন্ত ঢাকা-বগুড়া রুটে সরাসরি যেসব কোচ চলাচল করে সেগুলো আর চলতে দেওয়া হবে না। শাহ্ ফতেহ আলী পরিবহনের ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম মণ্ডল জানান, মঙ্গলবার রাজধানীর মহাখালী ও গাবতলীতে তাঁদের কম্পানির দুটি কাউন্টার বন্ধ করে দেয় ঢাকা মোটর শ্রমিক ও মালিক সমিতি। তার ফলে এই অবস্থা তৈরি হয়। আমাদের রংপুর অফিস জানায়, বাস ধর্মঘট ডাকায় রংপুরের বিভিন্ন স্থান থেকে ঢাকায় চলাচলের আগাম টিকিট কেটে বিপাকে পড়ে যাত্রীরা। রংপুর জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বলেন, এটা বগুড়ার সমস্যা। রংপুর থেকে ঢাকাগামী আগমনী বাস কাউন্টারের ম্যানেজার অনিল চন্দ্র বলেন, ‘বগুড়ার ওপর দিয়ে আমাদের ঢাকায় যেতে হয়। বিকল্প আর কোনো পথ নেই। ফলে তারা ধর্মঘট আহ্বান করলে আমাদের করার কিছুই থাকে না।’ ধর্মঘট প্রত্যাহার : গতকাল সন্ধ্যায় পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিভাগীয় বাস মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতারা বগুড়া জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। বৈঠকে বগুড়ার জেলা প্রশাসক নূরে আলম সিদ্দিকী, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামানসহ ঐক্য পরিষদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


মন্তব্য