kalerkantho


বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

সুবর্ণ জয়ন্তীতে মেতেছে মাত্স্যবিজ্ঞান অনুষদ

আবুল বাশার মিরাজ, বাকৃবি   

১ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



সুবর্ণ জয়ন্তীতে মেতেছে মাত্স্যবিজ্ঞান অনুষদ

সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে বাকৃবির মাত্স্যবিজ্ঞান অনুষদ সেজেছে নতুন সাজে। ছবি : কালের কণ্ঠ

উপমহাদেশের প্রথম উচ্চতর মত্স্য শিক্ষা ও গবেষণার প্রতিষ্ঠান হিসেবে খ্যাত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মাত্স্যবিজ্ঞান অনুষদ ৫০ বছরে পা দিয়েছে। এ উপলক্ষে তিন দিনের সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষদের প্রায় দুই হাজার প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী এ উৎসবে যোগ দেবে। ১৯৬৭ সালে মাত্স্যবিজ্ঞান অনুষদের যাত্রা শুরু হয়।

আগামীকাল শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত তিন দিনের সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসবের আয়োজনের মধ্যে রয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, মত্স্যযাত্রা, মত্স্য গবেষণাভিত্তিক সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, মেলা, পোস্টার প্রদর্শনী, স্মৃতিচারণা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রভৃতি। উৎসবে মত্স্য সেক্টরের সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছাড়াও মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিব, মহাপরিচালকসহ অন্য পলিসি মেকাররা, আন্তর্জাতিক বহুজাতিক সংস্থা ও দাতাগোষ্ঠীর প্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও কম্পানির প্রতিনিধি, ব্যক্তি উদ্যোক্তা, মত্স্য চাষি ও হ্যাচারি মালিক, বাকৃবি ও অন্য সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা যোগ দেবেন বলে জানা গেছে।

৫০ বছর ধরে গবেষণার ক্ষেত্রে অসাধারণ সফলতার সাক্ষ্য বহন করে যাচ্ছে মাত্স্যবিজ্ঞান অনুষদ। এর মধ্যে বাইম, মাগুর, শিং, তারা বাইম, গুচি বাইম, বাটা মাছের কৃত্রিম প্রজননসহ ভাসমান খাঁচায় মাছ চাষ পদ্ধতি, এক সঙ্গে সবজি ও মাছ চাষের আধুনিক পদ্ধতি (একুয়াপনিকস), স্বল্প খরচে বরফ বক্স, রিং টানেল পদ্ধতিতে শুঁটকি, খাঁচায় পাঙ্গাশ মাছের চাষ, ডাকউইড দিয়ে মিশ্র মাছ চাষ, মাছের বিষ্ঠা দিয়ে সবজি চাষ, মাছের জীবন্ত খাদ্য হিসেবে টিউবিফেকস (এক ধরনের কীট) উৎপাদনের কলাকৌশল, ইলিশ মাছ আরোহণের পর মানসম্মত উপায়ে বাজারজাতকরণ, দেশি পাঙ্গাশের কৃত্রিম প্রজনন, মাছের পোনা চাষের জন্য রটিফারের চাষ, কুঁচিয়া মাছের কৃত্রিম চাষ পদ্ধতি আবিষ্কার, খাঁচায় দেশি কই মাছ চাষ পদ্ধতি এবং ইলিশ মাছের স্যুপ ও নুডুলস উদ্ভাবন উল্লেখযোগ্য।

এ ছাড়া অনুষদের জিন টেকনোলজি, মত্স্য জীব ও শারীরতত্ত্ব, মত্স্য চাষ, মত্স্য পুষ্টি, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, পানি ও মাটির ভৌত রসায়ন, মত্স্য আহরণ ও প্রক্রিয়াকরণ গবেষণাগারগুলো এরই মধ্যে বিশ্বমানে উন্নীত হয়েছে।

২০১৭ সালের এক প্রতিবেদনে থেকে জানা যায়, গত ১০ বছরে বাংলাদেশে চাষের মাছ উৎপাদন দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। ২০১২ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী উৎপাদন ছিল ১৭ লাখ ২৬ হাজার মেট্রিক টন। এ উৎপাদন বেড়ে ২০১৭ সালে হয়েছে প্রায় ২১ লাখ মেট্রিক টন। আর এই বিপুল উৎপাদনের জন্যই পৃথিবীতে মুক্ত জলাশয় ও চাষভিত্তিক মত্স্য উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ পঞ্চম। আর এই বিপুল মাছ উৎপাদনে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন দেশের মত্স্যবিজ্ঞানী, গবেষক, শিক্ষক, মাঠকর্মী ও সম্প্রসারণকর্মী। যাঁদের বেশির ভাগই বাকৃবি মাত্স্যবিজ্ঞান অনুষদের গ্র্যাজুয়েট। মাছের জাত উন্নয়ন, সংরক্ষণ, চাষ, পুষ্টি ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, উন্মুক্ত জলাশয় ব্যবস্থাপনা, মাছ প্রক্রিয়াকরণ ও মত্স্যপণ্য উৎপাদনসংক্রান্ত প্রায় সব তথ্য-প্রযুক্তি প্যাকেজের সূতিকাগার হচ্ছে এই অনুষদ। এখানে উদ্ভাবিত প্রায় সব প্রযুক্তিই দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাকৃবির মাত্স্যবিজ্ঞান অনুষদের গ্র্যাজুয়েট ও মত্স্য চাষি, হ্যাচারি মালিক ও মাঠকর্মীদের মাধ্যমে পরিবর্তিত-পরিমার্জিত এবং পরিবর্ধিত হয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে মত্স্য সেক্টরের উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছে।

অনুষদীয় ডিন অধ্যাপক ড. গিয়াস উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘বিশ্বমানের গ্র্যাজুয়েট তৈরির মাধ্যমে দেশে জলজসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন এবং মাছ উৎপাদনের উত্তরোত্তর বৃদ্ধিসাধন আমাদের লক্ষ্য। সেই সঙ্গে যুগোপযোগী ও মানসম্মত মৌলিক-প্রায়োগিক গবেষণার মাধ্যমে মাঠ উপযোগী তথ্য ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং মত্স্য চাষি, হ্যাচারি মালিক, প্রক্রিয়াজাতকারী ও সম্প্রসারণ কর্মীদের মধ্যে তা ছড়িয়ে দিতে নিয়োজিত আমাদের দক্ষ গ্র্যাজুয়েটরা।’


মন্তব্য