kalerkantho


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনা

দপ্তরে ভিসি, রাস্তায় সাবেক ভিসি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



দপ্তরে ভিসি, রাস্তায় সাবেক ভিসি

ড. ফারজানা ইসলামকে দ্বিতীয় মেয়াদে উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগ দেওয়ায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি)। আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের দুই অংশ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে।

গতকাল সোমবার এক পক্ষ উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের দাবিতে প্রশাসনিক ভবন অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে। ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’-এর ব্যানারে গতকাল সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত তারা অবরোধ করে। এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন বিভাগের অর্ধশতাধিক শিক্ষক অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও সিনেট সদস্য শরীফ এনামুল কবির, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমেদ প্রমুখকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। অবরোধ চলাকালে ভিসি ফারজানা ইসলাম প্রশাসনিক ভবনের ভেতর তাঁর দপ্তরে অবস্থান করছিলেন।

অবরোধে অংশগ্রহণকারী সংগঠনের সহসভাপতি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক মো. লুত্ফর রহমান বলেন, ‘ছয়জন শিক্ষক সংগঠনের গঠনতন্ত্রের বিরুদ্ধে গিয়ে রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। ভিসি ও তাঁর অনুসারী শিক্ষকরা বঙ্গবন্ধু হলের প্রাধ্যক্ষ, ব্যবসায় অধ্যয়ন অনুষদের ডিনসহ কয়েকজন শিক্ষককে হুমকি দিয়েছেন। রাজনৈতিক স্বার্থে তাঁরা এসব কাজ করেছেন। এ হুমকির প্রতিবাদে আমরা অবরোধ কর্মসূচি পালন করছি।’

গতকাল দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, প্রশাসনিক ভবনের সামনের দুই রাস্তায় দাঁড়িয়ে শিক্ষকরা অবস্থান নিয়েছেন। এ সময় প্রশাসনিক ভবনে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। প্রশাসনিক ভবনের তিনটি প্রবেশদ্বারে ব্যানার ঝোলানো থাকলেও কোনো তালা লাগানো দেখা যায়নি।

জাবি সূত্র জানায়, উপাচার্য পদ নিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা। আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের অন্য একটি অংশ এই আন্দোলনকে সাবেক ভিসি শরীফ এনামুল কবীরপন্থী শিক্ষকদের বলে দাবি করেছে। তাঁদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিরুদ্ধ ও ব্যক্তিগত ক্ষমতা লিপ্সাসংক্রান্ত কার্যক্রমে একাত্মতা প্রকাশ না করায় তাঁদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। গত রবিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটরিয়ার লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের ওই পক্ষ। ‘দুই উপ-উপাচার্য (প্রোভিসি) অধ্যাপক মো. আবুল হোসেন (শিক্ষা) ও আমির হোসেনের (প্রশাসন) বিরুদ্ধে সংগঠনটির ত্যাগী ও জ্যেষ্ঠ নেতাসহ অন্য নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং উপ-উপাচার্যের পদসহ একাধিক পদ কুক্ষিগত করে রাখার অভিযোগ’ করা হয় লিখিত বক্তব্যে।

শিক্ষক সূত্র জানায়, দুই প্রোভিসি সাবেক ভিসি শরীফ এনামুল কবীরের অনুসারী। তাঁদের মধ্যে অধ্যাপক আমির হোসেন সম্পর্কে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘একজন ব্যক্তি প্রেষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসির দায়িত্বে থেকেও একাধারে অনুষদের ডিন, মানবসম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্রের পরিচালক ও গ্রুপের সম্পাদক হিসেবে কিভাবে থাকেন? এটা আমাদের বোধগম্য না।’ এ ছাড়া বর্তমান ভিসির বিরুদ্ধে দুই প্রোভিসির আন্দোলনে সমর্থন দেওয়ার কথা উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সিকদার মো. জুলকারনাইন বলেন, ‘প্রশাসনিক কর্মকর্তা হয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে অনৈতিক অবস্থান নেওয়া অত্যন্ত নিন্দনীয়।’

সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক বশির আহমেদ বলেন, ‘ওই শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয় আইনের অপব্যাখ্যা করে ভিসি প্যানেল নির্বাচনের দাবিতে অনৈতিকভাবে আন্দোলন করছেন। কেননা রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য আইন মেনে ফারজানা ইসলামকে পুনরায় ভিসি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।’ এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রাশেদা আখতার, পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আশরাফুল আলম, আইন ও বিচার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাপস কুমার দাস প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ভিসি প্যানেল নির্বাচন ঘোষণার দাবিকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। গত জানুয়ারি থেকে ভিসি প্যানেল নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি শরীফ এনামুল কবিরের নের্তৃত্বে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের একাংশ। অন্যদিকে বর্তমান ভিসি ফারজানা ইসলামের পক্ষে কাজ করে আসছে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের আরেক অংশ। এর মধ্যে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. আব্দুল হামিদ ‘বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৭৩-এর ১১(১) ধারা’ অনুযায়ী ফারজানা ইসলামকে দ্বিতীয় মেয়াদে ভিসি নিয়োগ দেন।

হুমকির বিষয় অস্বীকার করে ভিসি অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি কোনো দিন কাউকে হুমকি দেওয়া কিংবা ভয়ভীতি দেখানো তো দূরের কথা, কোনো ধরনের নেতিবাচক কথাই বলিনি। আমি মনে করি, আমার সম্পর্কে সম্পূর্ণ মিথ্যাচার করা হচ্ছে। এটি খুবই অন্যায় এবং আমি এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’



মন্তব্য