kalerkantho


করাঙ্গী নদীর ওপর স্বেচ্ছাশ্রমে কাঠের সেতু

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



করাঙ্গী নদীর ওপর স্বেচ্ছাশ্রমে কাঠের সেতু

স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ সাত গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার লোকের নিত্যদিনের চলাচল করাঙ্গী নদীর ওপর দিয়ে। তবে এখানে কোনো সেতু না থাকায় হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের রানীগাঁও ইউনিয়নের মানুষের দুর্ভোগের শেষ ছিল না। উত্তর বড়জুষ, কালিকাপুর, আতিকপুর, রাজাকোনা, শাহপুর, বরমচর, নাসিমাবাদ ও পারকুল চা বাগানের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি সেতুর অভাবে চরম ভোগান্তিতে ছিল। অনেকবার সেতুর দাবিতে একাধিক জনপ্রতিনিধিদের কাছে ধরনা দিয়েও কোনো লাভ হয়নি। অবশেষে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমনের নজরে আসে বিষয়টি। তিনি ব্যক্তিগত অর্থায়নে সাতটি গ্রামের লোকজনের সমন্বয়ে কাঠ দিয়ে সেতু তৈরির উদ্যোগ নেন। আর এর মধ্য দিয়েই নিরসন হতে যাচ্ছে সাত গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার লোকের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ।

উত্তর বড়জুষ গ্রামের রমজান আলী নামের এক ব্যক্তি জানান, চা বাগান অধ্যুষিত এলাকাগুলো এমনিতেই অনেক অবহেলিত। আশপাশে নেই স্কুল-কলেজ। এলাকার ছাত্রছাত্রীদের অনেক কষ্ট করে দূরবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে পড়ালেখা করতে হয়। তার ওপর নদীটিতে কোনো ব্রিজ বা কালভার্ট না থাকায় দুর্ভোগ ছিল অনেক বেশি। এবার নদীর ওপর কাঠের সেতু নির্মাণ হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

একই এলাকার আব্দুল কাদির মাস্টার বলেন, ‘বিভিন্ন সময় আমরা একাধিক জনপ্রতিনিধির কাছে সেতু নির্মাণের জন্য গেলেও কেউ কর্ণপাত করেননি। দীর্ঘদিন পর ব্যারিস্টার সাহেব এগিয়ে এলেন দুর্ভোগ লাঘবে। এ জন্য আমরা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ।’ চুনারুঘাটের সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক রাজু বলেন, ‘স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে কাঠ দিয়ে সেতুটি নির্মাণ করছি। আজ (গত বৃহস্পতিবার) এর কাজ শেষ হবে। শুক্রবার সকাল থেকেই লোকজন সেতুটি ব্যবহার করতে পারবে।’

এ ব্যাপারে ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন জানান, এলাকাবাসীর দুর্ভোগ দেখে নিজ থেকেই সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে ভূমিকা রাখতে পেরে তিনি অনন্দিত।


মন্তব্য