kalerkantho


বাকৃবিতে সভায় বক্তারা

শুকনো পদ্ধতিতে বোরো চাষ সময়োপযোগী প্রযুক্তি

বাকৃবি প্রতিনিধি   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



শুকনো পদ্ধতিতে বোরো ধান চাষ বর্তমানে একটি লাভজনক ও সময়োপযোগী প্রযুক্তি। এ পদ্ধতিতে ধান চাষ কৃষকের মাঝে বিস্তার ঘটাতে পারলে পানির অপচয় রোধ হবে, চাষে ব্যয় কমে যাবে। প্রযুক্তিটি মাঠপর্যায়ে পৌঁছাতে পারলে ধানের ফলন বাড়বে। কৃষক, সরকার ও দেশ উপকৃত হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি অনুষদীয় সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত শুকনো পদ্ধতিতে বোরো ধান চাষ বিষয়ক সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা।

সভায় কৃষিতত্ত্ব বিভাগের প্রধান (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. আবদুস সালামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা কমিটির সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. লুত্ফুল হাসান। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান। জানা গেছে, দেশে প্রচলিত কাদা পদ্ধতিতে বোরো ধান চাষে প্রতি কেজি ধান উৎপাদনে প্রায় তিন হাজা থেকে পাঁচ হাজার লিটার পানি খরচ হয়। নতুন কোনো জাতের উদ্ভাবন ছাড়াই বোরো ধান চাষে পানি সেচের পরিমাণ অর্ধেক দিয়ে ফলন বাড়ানো সম্ভব। এ প্রযুক্তিতে সেচের পরিমাণ কমানোর ফলে প্রচলিত কাদা পদ্ধতির তুলনায় ধানের ফলন বেশি হয়। এতে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে কৃষক।

ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘প্রচলিত কাদা পদ্ধতিতে বোরো ধানের জমিতে যে পরিমাণ সেচ দিতে হয় তার অর্ধেক সেচ দিয়েই ফসল ফলানো যাবে। এ প্রযুক্তিতে সামান্য অঙ্কুুরিত বীজ জো (জমির অনুকূল আর্দ্রতা) অবস্থায় জমিতে সরাসরি লাইনে লাগাতে হবে। তবে বীজ বপন করতে হবে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে।’ এ পদ্ধতির অন্যান্য উপকারী দিক সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ভূগর্ভস্থ পানি খুব সামান্য উত্তোলন করতে হয় বলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের খরচ কম হয়। জমিতে পানির পরিমাণ কম থাকায় কাদা পদ্ধতির তুলনায় এ পদ্ধতিতে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কম হয়। এ পদ্ধতিতে ধানের জীবনকাল ১৫ দিন কমে যায়। এতে আমন ধান কাটার পর সরিষা, আলু বা অন্যান্য রবিশস্য চাষের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়। ফলে কৃষক একটি বাড়তি ফসল ঘরে তুলতে পারবে।’


মন্তব্য