kalerkantho


হবিগঞ্জ ছাত্রলীগের সম্মেলন কাল

নেতাদের মধ্যে উদ্দীপনা

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



নেতাদের মধ্যে উদ্দীপনা

প্রায় চার বছর পর ছাত্রলীগের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সম্মেলন আগামী শনিবার। তবে কোথায় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সম্মেলনের স্থান নির্ধারণ করা হবে। সম্মেলন সামনে রেখে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। নতুন কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। সম্ভাব্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থীরা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের জেলা এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। তবে জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সভাপতি ডা. ইসতিয়াক রাজ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মুকিদুল ইসলাম মুকিদ নতুন কমিটিতে আর থাকছেন না বলে জানিয়েছেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৬ অক্টোবর ছাত্রলীগের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সম্মেলন পৌরসভা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী থাকায় সম্মেলনে কোনো কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। পরে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ডা. ইসতিয়াক রাজ চৌধুরীকে সভাপতি, মুকিদুল ইসলাম মুকিদকে সাধারণ সম্পাদক, সাইদুর রহমান ও কায়েস চৌধুরীকে সহসভাপতি, মাহবুবুর রহমান সানিকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং মহিবুর রহমান মাহিকে সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনীত করে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করে দিয়েছিলেন। ওই কমিটির প্রায় তিন বছর পর ২০১৭ সালের ৩১ জুলাই জেলা ছাত্রলীগের ২১১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে ৫২ জনকে সহসভাপতি, ৯ জনকে যুগ্ম সম্পাদক ও ৯ জনকে সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনীত করা হয়। হবিগঞ্জের ইতিহাসে ওই কমিটিই ছিল ছাত্রলীগের সবচেয়ে বড় কমিটি।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মুকিদুল ইসলাম মুকিদ বলেন, ‘দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে ছাত্রলীগকে সুসংগঠিত করার জন্য আমরা দিনরাত কাজ করেছি। আগের তুলনায় হবিগঞ্জ ছাত্রলীগ অনেক সুসংগঠিত।’ তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করে কেন্দ্র থেকে আমাদের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সম্মেলন সম্পন্ন করার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। ইনশাআল্লাহ সুন্দরভাবে সম্মেলন সম্পন্ন করব।’ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ডা. ইসতিয়াক রাজ চৌধুরী বলেন, ‘১০ ফেব্রুয়ারি আমাদের জেলা সম্মেলন করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। ওই দিন প্রথম অধিবেশনে সম্মেলন হবে। দ্বিতীয় অধিবেশনে নিয়ম অনুযায়ী কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। কাউন্সিলে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক প্রার্থীরা তাদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দেবেন। তা দেখে প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে।’ কাউন্সিল গোপন ব্যালটের মাধ্যমে হবে, না সমঝোতার মাধ্যমে হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. ইসতিয়াক রাজ চৌধুরী বলেন, ‘সেই সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় নেতারা নেবেন। তবে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখব।’

এদিকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে সভাপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাঁদের নাম শোনা যাচ্ছে তাঁরা হলেন বর্তমান কমিটির সহসভাপতি সাইদুর রহমান, সহসভাপতি কায়েছ চৌধুরী, সহসভাপতি সাব্বির আহমেদ রনি, সহসভাপতি আফরোজ আহমেদ, সহসভাপতি মিজানুর রহমান মিজান, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুর রহমান মাহি, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোফাচ্ছির রায়হান মুফতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান সানি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদিকুর রহমান মুকুল, হবিগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের আহমেদ পারভেজ ও বৃন্দাবন কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক আজিজ। সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাঁদের নাম শোনা যাচ্ছে তাঁরা হলেন জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সহসভাপতি হাবিবুর রহমান চৌধুরী, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়জুর রহমান রবিন, বৃন্দাবন কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি সৈয়দ হাবিবুর রহমান গোলাম কিবরিয়া, জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল ইসলাম পলাশ, জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অলিউর রহমান শাহিন ও ছাত্রলীগ নেতা জাকির হোসেন। এ ছাড়া আরো অনেকে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে তাঁদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া গেছে। জেলা ছাত্রলীগের একটি সূত্র জানায়, এবারের সম্মেলনে প্রধান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে কে কে থাকবেন, তা জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


মন্তব্য