kalerkantho


লক্ষ্মীপুরে শিশু মামুন হত্যা

খুনের রহস্যভেদ নিয়ে ধূম্রজাল!

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



লক্ষ্মীপুরে ১১ বছর বয়সী শিশু মামুনকে হত্যা রহস্য নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। মামুনের সত্বাবা মাকসুদ ওরফে মাসুদ পারিবারিক কলহের জের ধরে তাকে হত্যা করেছেন বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা দাবি করেছেন। তবে গ্রেপ্তারের পর মাসুদকে নির্যাতন চালিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় করেছে পুলিশ—এ অভিযোগ মাসুদের পরিবারের। এ নিয়ে পুলিশ ও পরিবারের পক্ষ থেকে আলাদা সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।

থানা পুলিশ জানায়, সদর উপজেলার মধ্য টুমচর গ্রামে ফসলের ক্ষেতের পানি নিষ্কাশনের নালা থেকে গত ২২ জানুয়ারি বিকেলে মামুনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ তার সত্বাবা মাসুদকে আটক করে।

এ নিয়ে ২৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ওসি এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. লোকমান হোসেন এক সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছেন দাবি করে সাংবাদিকদের জানান, পারিবারিক কলহের জেরে ২১ জানুয়ারি রাতে মামুনকে টুমচর মাদরাসায় ওয়াজ মাহফিল থেকে ডাব খাওয়ার কথা বলে ডেকে নেন সত্বাবা মাসুদ। এ সময় পাশের ক্ষেতের নালার মধ্যে তার নাক-মুখ চেপে ধরা হয়। একপর্যায়ে সে নিস্তেজ হয়ে পড়লে কাঁদামাটিতে উপুড় করে চাপা দিয়ে হত্যা নিশ্চিত করা হয়। পরে লাশের ওপর লতাপাতা দিয়ে ডেকে রাখা হয়। এ ঘটনায় মাসুদ লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মুনছুর আহমেদের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পরে তাঁকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। লাশ উদ্ধারের রাতে মামুনের মা রাহিমা আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের নামে থানায় মামলা করেন।

এদিকে গ্রেপ্তার মাসুদ জেলা কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে গত সোমবার সকালে তাঁকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন কয়েকজন সাংবাদিক ও পরিবারের লোকজনকে তিনি থানায় পুলিশ হেফাজতে থাকাকালে নির্যাতনের বর্ণনা দেন। নির্যাতনের পর ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয় বলে তিনি জানান।

এদিকে মঙ্গলবার মাসুদের বাবা মুক্তিযোদ্ধা হাছানুজ্জামান লক্ষ্মীপুর শহরের বাগবাড়ীতে সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় ছেলের বরাত দিয়ে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, মাসুদকে আটকের পর পুলিশ দুই পাশে হাত-পাগুলো বেঁধে রাখে। এরপর অমানুষিক নির্যাতন করে হত্যার ঘটনায় সাজানো বর্ণনা শিখিয়ে দিয়ে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়। আদালতে একই বর্ণনায় আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার জন্য তাঁকে বলা হয়, না হয় ক্রসফায়ারে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে মাসুদের ভাই মা সমরাত বানু ও ভাই মো. মামুন উপস্থিত ছিলেন।

 


মন্তব্য