kalerkantho


মুরাদনগরের সুমন হত্যার পাঁচ মাস

শনাক্ত হয়নি খুনি তদন্তে ঢিমেতাল

মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



কুমিল্লায় সুমন মিয়া (৩৮) খুনের ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস হতে চলল; কিন্তু এখনো হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন কিংবা ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

নিহত সুমন মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরাবাজার থানার বাইড়া গ্রামের সৈয়দ আলী ডাক্তারের ছেলে। গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে দেবিদ্বার উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের গোপালনগর গ্রামের একটি ডোবা থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়ে দেবিদ্বার থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করে পুলিশ। গত ৩০ নভেম্বর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে সুমনকে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর গত ৭ ডিসেম্বর ৪ নম্বর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রোকেয়া বেগম এ ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে রেকর্ড করার জন্য দেবিদ্বার পুলিশকে নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পর গত ১৬ ডিসেম্বর নিহতের বড় ভাই পল্লী চিকিৎসক দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় হত্যা মামলা করেন। এতে মূল আসামি করা হয় নিহতের আরেক বড় ভাই মোহন মিয়ার স্ত্রী সালমা ইসলাম শাওন, শালা জিয়াউল হক টিপু, আতাউর রহমান লিটন ও কামরুন নাহারকে। তাঁরা দেবিদ্বার উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের গোপালনগর গ্রামের মৃত জুনাব আলীর সন্তান।

নিহতের স্ত্রী হাসিনা বেগম বলেন, ‘আমার জা সালমা যৌতুকের মামলা করায় দুই ভাশুর দেলোয়ার ও মোহনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। আটক ভাইদের ছাড়িয়ে আনতে থানায় গেলে পুলিশ বলেন, দুই পরিবারের মধ্যে সমঝোতা হলে তাদের ছেড়ে দেবে। তাই সমঝোতার প্রস্তাব নিয়ে ভাইয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে গত ৮ সেপ্টেম্বর গোপালনগর গ্রামে যান আমার স্বামী (সুমন)। ওই দিন আর তিনি বাড়ি ফেরেননি। পরদিন সকালে ওই গ্রামের একটি ডোবা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই এলাকায় গিয়ে আমরা লোকমুখে শুনেছি, টিপু, লিটনসহ পরিবারের লোকজন তাঁকে বেধড়ক পিটিয়েছে। আমরা মোহনের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নামে মামলা করতে চাইলে পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে আদালতের নির্দেশে থানায় মামলা নিলেও আসামি ধরতে গড়িমসি করছে পুলিশ। ঢিমেতাল হত্যাকাণ্ডের তদন্তেও। গরিব বলে আমাদের সঙ্গে এমনটা করা হচ্ছে। স্বামী হত্যার বিচার দেখে যেতে না পারলে মরেও শান্তি পাব না।’

নিহতের বড় ভাই পল্লী চিকিৎসক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার ছোট ভাই সুমন সহজ-সরল ছিল। তাই যৌতুকের মামলায় মোহনের শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে আসামি করেনি। পুলিশের কথামতো সমঝোতার প্রস্তাব নিয়ে মোহনের শ্বশুরবাড়িতে যায় সুমন। ওকে দেখে মোহনের শ্বশুরবাড়ির লোকজন ক্ষেপে গিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে হত্যা করে লাশ ডোবায় লুকিয়ে রাখে। ওই পরিবারের দুই সদস্য আতাউর রহমান লিটন ও জিয়াউল হক টিপু পুলিশে চাকরি করছেন। ঘটনার দিন তাঁরা বাড়িতে ছিলেন। তাই তাঁদের আসামি করে মামলা করা হয়েছে। আমরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।’

এদিকে সুমন হত্যার বিচার, খুনিদের শনাক্ত ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সম্প্রতি মুরাদনগর উপজেলার বাইড়া বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে গতকাল বুধবার হত্যা মামলায় অভিযুক্ত মোহনের স্ত্রী সালমা ইসলাম শাওন, জিয়াউল হক টিপু ও আতাউর রহমান লিটনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দেবিদ্বার থানার উপপরিদর্শক মো. খালেদ বলেন, ‘হত্যার ঘটনাটি রহস্যময়। তাই তদন্তে কিছুটা সময় লাগছে।’

 



মন্তব্য