kalerkantho


পাঁচ মাস পর খুলল মামলার জট

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

২২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



পাঁচ মাস পর খুলল মামলার জট

টাকা ও মোবাইল ফোন নেওয়ার পর প্রকৌশলী সিদ্দিক আহমেদকে অপহরণ করে ছিনতাইকারীরা। পরে মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না পেয়ে খুন করে। হত্যার পাঁচ মাস পর ঢাকা জেলা দক্ষিণ গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হাতে আটক তিন ব্যক্তি এই স্বীকারোক্তি দিয়েছে।

গতকাল রবিবার দুপুরে ঢাকা জেলা দক্ষিণ ডিবির কেরানীগঞ্জের কদমতলী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যে এ তথ্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোহাম্মদ সাঈদুর রহমান সাইদ। আটকরা হলেন মো. রাসেল (৩০), হিরু হাওলাদার (৩০) ও মো. তাজুল ইসলাম তাজু (৩০)। এর মধ্যে হিরু হত্যার কথা অপকটে স্বীকার করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাঈদুর বলেন, প্রকৌশলী সিদ্দিক আহমেদ ছিলেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের পানগাঁওস্থ বসুন্ধরা মাল্টিফুড প্রডাক্টস লিমিটেডের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিটকো অ্যাসোসিয়েটের প্রকল্প ইনচার্জ। গত বছর ২ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টায় কেরানীগঞ্জ থেকে রাজধানীর ১৬১ নম্বর দক্ষিণ মিরপুরের বাড়িতে যাওয়ার সময় হাসনাবাদ থেকে অপহৃত হন। অপহরণকারীরা তাঁর মোবাইল ফোন থেকে কল করে রাতে একাধিকবার তাঁর ছেলে কামরুল ইসলাম ও বিটকো কম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিদারুল আলমের সঙ্গে কথা বলেন। মুক্তির জন্য দুই লাখ টাকা চান। পরিবারের লোকজন থানা পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যের সহযোগিতা নেয়। একসময় অপহৃতের মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়। ৪ আগস্ট সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার আইন্তা এলাকায় ১০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের সামনে পাকা রাস্তার ওপর লাশ পাওয়া যায়। নিহতের ছেলে নুরুল ইসলাম দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পুলিশ তদন্ত করে। অগ্রগতি না হওয়ায় মামলাটির ভার দেওয়া হয় ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওপর। তদন্তের দায়িত্ব পান গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক মো. মোস্তাফিজুর রহমান। প্রযুক্তির সহায়তায় তিনি নিহতের মোবাইল ফোনের সন্ধানে নামেন। একপর্যায়ে গত ১১ নভেম্বর নিহতের ফোন পান হাসনাবাদ এলাকার এক চোরা মোবাইল ক্রেতা-বিক্রেতার কাছে। তাকে আটকের পর জানা যায়, তিনি মোবাইলটি রাসেল ও হিরুর কাছ থেকে কিনেছেন। হিরু ও রাসেলকে আটকের জন্য খুলনা-বরিশাল-পটুয়াখালী পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে ১৯ জানুয়ারি ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে হিরুকে আটক করে পুলিশ। তাঁর স্বীকারোক্তি মোতাবেক রাসেল ও তাজুল ইসলাম তাজুকে আটক করে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসামি হিরুর বরাত দিয়ে বলেন, এরা সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র। চার-পাঁচজন যাত্রী সেজে অটোরিকশায় বসে থাকে। আরেকজন ভালো দেখে যাত্রী তুলে অস্ত্রের মুখে সব কেড়ে নেয়। ঘটনার দিন ঠিক এ রকম ঘটেছে। তারা চালকসহ পাঁচজন সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বসে ছিল। এ সময় একজন যাত্রী তুলে নেয়। যখন তারা জানতে পারে যাত্রী একজন প্রকৌশলী, তখন তাঁকে অপহরণ করে এবং তাঁর মোবাইল ফোন ও সাড়ে ছয় হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এরপর সিদ্দিকের মোবাইল ফোন দিয়ে তাঁর স্বজনদের কাছে মুক্তিপণের জন্য টাকা চায়। রাত ঘনিয়ে এলে হাসনাবাদ ওষুধ ফ্যাক্টরির কাছে একটি খালি প্লটে আটক করে রাখে। এর দুই দিন পর তাঁকে হত্যা করে হাসপাতালের সামনে ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রামানন্দ সরকার, ডিবির পরিদর্শক মো. শাহজামান, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক মো. মনিরুল ইসলাম, ডিবির নাজমুল হাসান, উপপরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান, কাজি এনায়েত হোসেন, সালাহউদ্দিন, বিপুল চন্দ্র দাস, সহকারী উপপরিদর্শক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

নিহতের ছেলে হত্যা মামলার বাদী মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘বাবা গেছেন, তাঁকে আর ফেরত পাব না। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রকৃতভাবে যারা জড়িত রয়েছে, সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করছি, যাতে আর কোনো ছেলে পিতৃহারা না হয়।’



মন্তব্য