kalerkantho


একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প

মোংলায় ২৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ

প্রকল্প পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

২২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের মোংলা উপজেলার সাবেক সমন্বয়কারী জুলেখা বিবির বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে ২৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই অফিসের আরো দুজন জড়িত। প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পটির মোংলার বর্তমান সমন্বয়কারী মো. কামরুজ্জামান প্রকল্প পরিচালক বরাবর এই লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জুলেখা বিবি।

মোংলার সমন্বয়কারী কামরুজ্জামানের ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রকল্পের সাবেক উপজেলা সমন্বয়কারী জুলেখা বিবি ২০১১ সালের ১৯ নভেম্বর মোংলায় যোগ দিয়ে ২০১৭ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত চাকরিকালে নানা দুর্নীতিতে জড়ান। প্রকল্পের ৫৪টি সমিতির পাস বইয়ের টাকা মাঠ সহকারীরা বিভিন্ন সময় প্রকল্প সমন্বয়কারী জুলেখা বিবির অফিসের যৌথ অ্যাকাউন্টে জমা করেন। মাঠ সহকারীদের কাছে ওই টাকার চালান থাকলেও সদস্যদের নামে সঞ্চয় ও কিস্তি ব্যাংকে জমা (অনলাইন পোস্টিং) হয়নি। এতে মাঠকর্মীরা মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে ব্যাপক সমস্যায় পড়েন। ওই কর্মকর্তা তাঁর সমিতির সদস্যদের মাঝে ঋণ বিতরণের সময় জনপ্রতি ১০ হাজার টাকার জন্য ১০০-২০০ টাকা করে উেকাচ নেন; কেউ প্রতিবাদ করলে তাঁর ঋণ বন্ধ করে দেন। তিনি তাঁর তিন ইউনিয়নের ছয়জন ব্যবস্থাপকের (ম্যানেজার) ভাতা বাবদ ৬০ হাজার টাকাও আত্মসাৎ করেছেন। তিনি বিভিন্ন সময় অফিসের ২২ লাখ ৮৩ হাজার ৫৮০ টাকা সোনালী ব্যাংকে তাঁর নিজের হিসাবে জমা করেন। পরে ২২ লাখ সাত হাজার ৭৪৩ টাকা তুলে আত্মসাৎ করেন। প্রকল্পের চাঁদপাই ইউনিয়ন মাঠ সহকারীও চার লাখ ২৪ হাজার ৫৬০ টাকার হিসাব দিতে ব্যর্থ হন। এ ঘটনায় অফিসের এক কম্পিউটার অপারেটরও জড়িত বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। এই তিনজনের কাছ থেকে দুই খাত মিলে ২৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৩ টাকা আদায় করতে প্রকল্প পরিচালক বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জুলেখা বিবি নিজে বাড়ি কেনার নামে তাঁর অফিসের মাঠ সহকারী সুদেব গাইনের কাছ থেকে ৫০ হাজার ও শীলা রানীর কাছ থেকে ৯৪ হাজার টাকা ধার হিসেবে নিয়ে ফেরত দিচ্ছে না বলে অভিযোগ আছে। বিষয়টি উপজেলায় জানাজানি হওয়ার আগেই জুলেখা বিবি ২০১৭ সালের ৩১ জুলাই মোংলা থেকে খুলনার দাকোপ উপজেলায় বদলি হয়ে যান।

এ ব্যাপারে জুলেখা বিবি বলেন, তিনি তিন মাস ছুটিতে দেশের বাইরে থাকার সময় হিসাবে গরমিল হয়েছে। বিষয়টি তিনি মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন।

একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. আকবর হোসেন বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



মন্তব্য