kalerkantho


রাজবাড়ী শ্রীপুর বাজার

দুই পাহারাদারকে বেঁধে ডাকাতি

রাজবাড়ী প্রতিনিধি   

২২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



রাজবাড়ী-ফরিদপুর সড়কে জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র সদর উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন শ্রীপুর বাজারের দুই পাহারাদারকে বেঁধে রেখে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রবিবার সকালে শ্রীপুর বাজারের মেসার্স ওসমান অটোরিকশার দোকানে গিয়ে দেখা যায়, ওই দোকানের একটি শাটারের দুটি লক ভাঙা। ডাকাতরা প্রায় সাড়ে ১১ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন মালিক। এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের নামে গতকাল দুপুরে একটি মামলা হয়েছে।

দোকান মালিক ও জাতীয় রিকশা-ভ্যান শ্রমিক পার্টি রাজবাড়ী জেলা শাখার সভাপতি ওসমান আলী বলেন, ‘গত শনিবার রাত ৮টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে গিয়েছি। রাত সাড়ে ৩টার দিকে মুঠোফোনে জানতে পারি দোকানে ডাকাতি হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গেই বাজারে এসে দেখি, ডাকাতরা শাটারের তালা ভেঙে ভেতর থেকে অটোরিকশার ৫৪ সেট ব্যাটারি, এক কার্টন কন্ট্রোলার ও এক কার্টন বিয়ারিং নিয়ে গেছে।’ শ্রীপুর বাজার কমিটির সভাপতি আব্দুর রহিম মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কবির বাবু জানান, বাজারে মমতাজ সেখ ও রেজাউল করিম খান রাজু নামের দুজন পাহারাদার হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন।

ডাকাতদের মারধরে আহত পাহারাদার রেজাউল করিম খান রাজু বলেন, ‘রাত ১টার দিকে একটি পিকআপ ভ্যান বাজার এলাকায় বেশ কয়েকবার চক্কর দেয়। একপর্যায়ে পিকআপটি বাজারেই থামে। এ সময় আমি ও মমতাজ সেখ (আরেক পাহারাদার) বাজারের মাংসের দোকানের পাশে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছি। পিকআপ থেকে চারজন লোক নেমে আমাদের জানায়, সদর উপজেলা পরিষদের একটি বাসা থেকে মালামাল নিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন। ফোন পেলেই তারা রওনা হবে। এ সময় তারাও জ্বলন্ত আগুনের উষ্ণতা নিতে থাকে। একপর্যায়ে আমরা দুজন ওই লোকদের রেখে বাজারের দুই পাশের দোকানগুলো দেখতে বের হই। মমতাজ সেখ কিছুটা দূরে যেতেই ওই লোকেরা পেছন থেকে আমাকে বেধড়ক পিটিয়ে জখম করে এবং হাত, পা ও চোখ বেঁধে ফেলে রাখে। এরপর মমতাজ সেখ ফিরে এলে ওই লোকেরা তাঁকেও মারধর করে বেঁধে ফেলে। অনেক চেষ্টার পর হাত ও পায়ের বাঁধন খুলে আমি দৌড়ে নিরাপদ স্থানে যাই এবং এলাকার মানুষকে ডেকে তুলে রাজবাড়ী থানার পুলিশকে খবর দিই। এরই ফাঁকে ডাকাতরা মেসার্স ওসমান অটোরিকশার দোকানের মালামাল নিয়ে চম্পট দেয়।’

রাজবাড়ী থানার ওসি (তদন্ত) কামাল হোসেন ভুইয়া জানান, পাহারাদার মমতাজ সেখ ও রেজাউল করিম খান রাজু এবং পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাসিন্দা ইলাহিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পরে তাঁদের শ্রীপুর বাজার কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের জিম্মায় রাখা হয়েছে। তিনি আরো জানান, দোকান মালিক ওসমান আলী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।



মন্তব্য