kalerkantho

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতাল

চিকিৎসক সংকট

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি   

২০ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



চিকিৎসক সংকটে ‘ভুগছে’ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতাল। চিকিৎসক সংকটের কারণে হাসপাতালের বহির্বিভাগে এখন রোগী দেখছেন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসাররা। অবস্থা এতটাই খারাপ যে কখনো কখনো জরুরি বিভাগও থাকছে চিকিৎসকশূন্য। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের এই বেহাল অবস্থা বিরাজ করলেও সংকট নিরসনে কোনো উদ্যোগ নেই। এতে করে চিকিৎসা নিতে এসে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে রোগীরা।

জেলার ২০ লাখ মানুষের প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র সদর হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে চলছে চিকিৎসক সংকট। প্রতিদিন এক হাজারের বেশি রোগী এখানে আসে চিকিৎসা নিতে। শীতের কারণে রোগীর চাপ আরো বেড়েছে। বছর দশেক আগে এই হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও লোকবল বাড়েনি। বর্তমানে এই হাসপাতালে ৫০ শয্যারও জনবল নেই।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যার হাসপাতালের জন্য চারজন সিনিয়র কনসালট্যান্ট, পাঁচজন জুনিয়র কনসালট্যান্ট ও চারজন মেডিক্যাল অফিসার থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে মাত্র দুজন সিনিয়র কনসালট্যান্ট, চারজন জুনিয়র কনসালট্যান্ট ও তিনজন  মেডিক্যাল অফিসার আছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নার্স জানান, ৫০ শয্যারও কম জনবল দিয়ে চলছে ১০০ শয্যার এই হাসপাতালটি। আর এ জন্যই রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের দোতলায় বহির্বিভাগের তিনটি কক্ষের সামনে রোগীদের দীর্ঘ লাইন। রোগীর চাপে সেখানে পা ফেলার জায়গা নেই। একেক করে কক্ষে ঢুকছেন রোগীরা। কিছুক্ষণের মধ্যেই চিকিৎসা নিয়ে বের হয়ে আসছেন তারা। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, বহির্বিভাগের ওই তিনটি কক্ষে কোনো এমবিবিএস চিকিৎসক রোগী দেখছেন না। চিকিৎসকের পরিবর্তে রোগী দেখছেন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার আব্দুল মমিন, আবুল বাসার ও সাদেকুল ইসলাম। এমনকি রোগীরাও কেউ জানে না, কিছুক্ষণ আগে যাঁর কাছে চিকিৎসা নিলেন, তিনি কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নন।

চিকিৎসা নিতে আসা সদর উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামের আবদুল খালেক জানান, দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তিনি চিকিৎসকের দেখা পেয়েছেন। কিন্তু ওই চিকিৎসক এমবিবিএস পাস করা কি না তিনি জানেন না।

কর্তব্যরত উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার আব্দুল মমিন জানান, কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাঁরা রোগী দেখছেন। প্রতিদিনই দুই শতাধিক রোগী দেখতে হয় তাঁদের। এতগুলো রোগী সামলানো রীতিমতো কষ্টসাধ্য ব্যাপার হলেও বাধ্য হয়েই দেখতে হচ্ছে তাঁদের।

বিষয়টি স্বীকার করে হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) নাদিম সরকার জানান, চিকিৎসক সংকটের কারণে বহির্বিভাগে চিকিৎসক দেওয়া যাচ্ছে না। কোনো উপায় না থাকায় উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসারদের দিয়েই চালাতে হচ্ছে বহির্বিভাগ। তাঁরা তাঁদের ‘স্বল্প জ্ঞান’ দিয়েই চিকিৎসা দিচ্ছেন।

এ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলা নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব মনিরুজ্জামান মনির। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিসক নেই। মাঝেমধ্যেই জরুরি বিভাগেও চিকিৎসক থাকে না। এই বিষয়গুলো নিয়ে নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়াসহ বিক্ষোভ-সমাবেশ করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নীরব ভূমিকা পালন করছে।

জেলা সিভিল সার্জন সাইফুল ফেরদৌস মো. কামাল আতার্তুক বলেন, ‘চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি একাধিকবার লিখিতভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া মেলেনি।’ কবে নাগাদ হাসপাতালের এই সংকট কাটবে—সে ব্যাপারে তিনি কিছু বলতে পারেননি।



মন্তব্য