kalerkantho


সোহাগপুরে গণহত্যা

৩০ বিধবার জন্য শুরু সরকারি ঘর নির্মাণ

শেরপুর প্রতিনিধি   

১৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



শেরপুরের নালিতাবাড়ীর সোহাগপুরে গণহত্যায় স্বামী-সন্তানহারা ৩০ বিধবার জন্য সরকারি অনুদানের ঘর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে বুধবার। এতে একাত্তরের দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকা এই বিধবাদের শেষ বয়সে এসে মুখে হাসি ফুটেছে। তাঁরা শেখ হাসিনার সরকারের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

১৯৭১ সালের ২৫ জুলাই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও রাজাকাররা কাকরকান্দি ইউনিয়নের সোহাগপুর গ্রামে হামলা চালিয়ে ১৮৭ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করে। এতে ৬২ জন নারী বিধবা হন। তাঁদের মধ্যে নির্যাতনের শিকার ছয় নারীকে গত বছর সরকার মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি দিয়েছে। আরো ১২ নারীকে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি দিতে যাচাই-বাছাই চলছে। বেঁচে আছেন ৩০ জন। গণহত্যায় তাঁরা স্বামী-স্বজন হারিয়েছেন এবং নির্যাতিত হয়েছেন। সোহাগপুর গণহত্যার দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।

নালিতাবাড়ী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের  ‘মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন প্রকল্প’-এর আওতায় সোহাগপুরে গণহত্যায় স্বামী-স্বজন হারানো ও নির্যাতিত ৩০ নারীর জন্য ঘর বরাদ্দ হয়েছে। ঘর নির্মাণকাজের তত্ত্বাবধান করছে এলজিইডি। দরপত্রের মাধ্যমে চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এটি বাস্তবায়ন করছে। দুটি থাকার, একটি রান্নার ও একটি পশুপাখি রাখার কক্ষ এবং পাশে নলকূপ ও শৌচাগার নির্মাণে প্রতিটি ঘরের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে প্রায় ৯ লাখ টাকা। ঘর লাল ও সবুজ রঙের হবে। এসব ঘর দেখলেই বোঝা যাবে, এটি সরকারি অনুদানে মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি।

শহীদ পরিবারের জবেদা বেওয়া বলেন, ‘গণহত্যায় স্বামীসহ চার জনরে হারাইছি। রোজগারের কেউ না থাহুনে মাইনষের বাড়িতে কাম কইরা দিন চালাইছি। বাড়িগর না থাহুনে এক আত্মীয়র বাড়িতে থাকছি। গণহত্যায় বিচার ও নারী মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাইছি। অহন আমগরে থাহুনের নাইগ্গা শেখ হাসিনা সরকার ঘরের ব্যবস্থা করছে। এই আনন্দ কইয়া বুঝাবার পাইতাম না।’

সোহাগপুর শহীদ পরিবার কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ‘৩০ জন নারীর মধ্যে সাতজনের ভিটেমাটি নেই। অন্যের বাড়িতে থাকেন। অসহায় ৩০ জনকে একটি করে বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়ায় তাঁরা দারুণ খুশি। শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে এ জন্য এলাকার এমপি কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ও সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।’

কাকরকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শহিদউল্লাহ তালুকদার মুকুল বলেন, ‘মতিয়া চৌধুরীর প্রচেষ্টায় সোহাগপুরের সেই বিধবাদের বাসস্থানের ব্যবস্থা হওয়ায় এলাকাবাসীর পক্ষে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। এটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।’

নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আশা করছি নির্মাণকাজ শেষে শিগগিরই এসব বাড়ি শহীদ পরিবারের বিধবাদের মধ্যে হস্তান্তর করা যাবে।’



মন্তব্য