kalerkantho


প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন

স্ত্রীর স্বীকৃতি না দিলে আত্মহত্যার হুমকি

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার সিতাইকুণ্ডু গ্রামে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করছেন প্রেমিকা। স্ত্রীর স্বীকৃতি না পেলে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল অনশনের পঞ্চম দিন।

অনশনে বসা তরুণীর নাম কাকলী খানম (১৯)। তিনি কোটালীপাড়ার মান্দ্রা গ্রামের সিদ্দিক তালুকদারের মেয়ে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিতাইকুণ্ডু গ্রামের আকবর আলী শেখের ছেলে আরমান শেখ নিক্সনের (২৫) সঙ্গে পাশের মান্দ্রা গ্রামের কাকলীর দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। গত অক্টোবর মাসে সিদ্দিক তালুকদার মেয়ে কাকলীকে তাঁর অমতে পাশের আশুতিয়া গ্রামে বিয়ে দেন। বিয়ের দুই দিন পর আরমানের কথায় কাকলী স্বামীর ঘর ছেড়ে আরমানের সঙ্গে ঢাকায় পালিয়ে যান। পরে আরমানের কথায় কাকলী তাঁর স্বামীকে ডিভোর্স দেন। এভাবে কিছুদিন যাওয়ার পর কাকলী বিয়ের জন্য আরমানকে চাপ দিলে ১৮ ডিসেম্বর তাঁদের বিয়ে হয়। কিছুদিন পর আরমান কাকলীকে তাঁর ভাইয়ের বাসায় রেখে চলে যান এবং কাকলীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। কাকলী বিভিন্নভাবে আরমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। উপায় না পেয়ে গত রবিবার ঢাকার ভাইয়ের বাসা থেকে সিতাইকুণ্ডু গ্রামে আরমানদের বাড়িতে এসে ওঠেন তিনি।

অনশনরত কাকলী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার এভাবে চলে আসা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। আমাকে এ বাড়িতে দেখে আরমান আমাকে কিছু না বলে পালিয়ে গেছে। তার জন্য আমি ঘর-সংসার ছাড়লাম। সে আমার সঙ্গে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। আমি এখন বাবা ও স্বামীর বাড়িতে কিভাবে মুখ দেখাব! সে (আরমান) যদি আমাকে স্ত্রীর স্বীকৃতি না দেয় তাহলে আমি আত্মহত্যা করব।’

আরমানের পিতা আকবর আলী শেখ বলেন, ‘আরমান ও কাকলীর বিয়ের বিষয়ে আমাদের কিছু জানা নেই। আমরা আরমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। কিন্তু তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাচ্ছি। আরমানের সঙ্গে যোগাযোগ না করা পর্যন্ত আমরা কাকলীর ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারব না।’

সিদ্দিক তালুকদার বলেন, ‘মেয়েকে আমি আমার পছন্দমতো বিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু আরমান আমার মেয়েকে প্রলোভন দিয়ে তার সংসার ভেঙেছে। তাকে ঢাকায় নিয়ে বিয়ে করেছে। এখন তাকে মেনে নিচ্ছে না। আমার দাবি, কাকলীকে স্ত্রী হিসেবে মেনে নিয়ে সংসার করুক আরমান। তা না হলে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে আরমান ও তার পরিবারকে বহন করতে হবে। এ ব্যাপারে আমি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।’

কোটালীপাড়া থানার ওসি মো. কামরুল ফারুক জানায় খবর পেয়ে ওই বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। সেখানে কাকলীকে আরমানের ঘরের সামনে না খেয়ে অনশন করতে দেখা গেছে। বিষয়টি আরমানের বাবাকে সামাজিকভাবে মেটানোর কথা বলা হয়েছে। না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।



মন্তব্য